গত এক সপ্তাহের বিশেষ অভিযানে পর্যুদস্ত কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিরা; জননিরাপত্তায় অনড় সেনাবাহিনী
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গত এক সপ্তাহে ২১ জন দুর্ধর্ষ অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, ডাকাত এবং কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে ১৩টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | রাত ১০:১৫ মিনিট
আইএসপিআর | ঢাকা
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছে।
অভিযানের উল্লেখযোগ্য সাফল্য ও উদ্ধারকৃত সরঞ্জাম
যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটককৃতদের কাছ থেকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত বেশ কিছু অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে:
- অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র: ১৩টি বিভিন্ন ধরণের অস্ত্র।
- গোলাবারুদ: ১১৪ রাউন্ড তাজা গুলি ও কার্তুজ।
- অন্যান্য সরঞ্জাম: বিস্ফোরক ককটেল, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র।
আটককৃত অপরাধীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
শিল্পাঞ্চল ও জননিরাপত্তায় সেনাবাহিনী
যৌথ বাহিনীর এই অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে এবং উৎপাদনমুখী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে। কিশোর গ্যাং ও মাদক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান
আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, আশেপাশে কোনো ধরণের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ লক্ষ্য করলে তা দ্রুত নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান ও নিরাপত্তা টহল জারি থাকবে।
















