আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই ফিরলেন ‘মোল্লা জাওয়ান্দি’; মামুনুল হকের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক ও মাদরাসা পরিদর্শন
বাংলাদেশ সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রটোকল বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নূন্যতম কূটনৈতিক শিষ্টাচার ছাড়াই ঢাকা সফর করেছেন আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মোল্লা নূর আহমদ নূর (মোল্লা জাওয়ান্দি)। কোনো বিদেশি সরকারের প্রতিনিধির এভাবে গোপনীয়তা বজায় রেখে বাংলাদেশে অবস্থান এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করা নিয়ে দেশের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের আগে এমন এক ‘রহস্যময়’ সফরকে গভীর উদ্বেগের চোখে দেখছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
অনলাইন ডেস্ক
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) মোল্লা নূর আহমদ নূর গত ২১ ডিসেম্বর ঢাকায় পৌঁছান। বিমানবন্দরে তাঁকে সরকারি কোনো প্রতিনিধি নয়, বরং বেসরকারি একটি বাণিজ্যিক সংগঠনের চেয়ারম্যান অভ্যর্থনা জানান।
প্রটোকল ছাড়াই সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রম
কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কোনো সরকারি কর্মকর্তা সফরে এলে অন্তত দুই-তিন সপ্তাহ আগে অবহিত করতে হয়। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি)-এর মতো সংস্থাকে এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। সফরের অংশ হিসেবে তিনি গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদরাসায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি ঢাকার বিভিন্ন মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কয়েক দফায় গোপন বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
মামুনুল হকের কাবুল সফরের প্রতিদান?
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরটি গত সেপ্টেম্বর মাসে মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বে একদল ইসলামি নেতার আফগানিস্তান সফরের ধারাবাহিকতা। উল্লেখ্য, গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তালেবান সরকারের আমন্ত্রণে মামুনুল হকসহ হেফাজতে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল কাবুল সফর করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সফরের ফলো-আপ হিসেবেই তালেবান নেতার এই ঝটিকা ঢাকা সফর।

সরকারের বিস্ময় ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া উইংয়ের কর্মকর্তারা এই বিষয়ে চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। উপদেষ্টার দপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, “কূটনৈতিক প্রটোকলের কোনো তোয়াক্কাই করা হয়নি। এমনকি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বা সচিবের সঙ্গে কোনো সৌজন্য সাক্ষাতের অনুরোধও আসেনি।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের পর দেশের পরিস্থিতি এমনিতেই স্পর্শকাতর। এই সময়ে একজন তালেবান নেতার প্রটোকলহীন অবস্থান ও বিভিন্ন মাদরাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে।
জনমনে সমালোচনার ঝড়
একজন তালেবান নেতার এভাবে বাংলাদেশে অবস্থান ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিদেশি কোনো স্পর্শকাতর শাসনব্যবস্থার প্রতিনিধিকে এভাবে বিচরণ করতে দেওয়া সরকারের গোয়েন্দা ব্যর্থতা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
















