ইয়েমেনের দক্ষিণে আবারও ঘনিয়ে উঠছে অস্থিরতার মেঘ। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সতর্ক করে দিয়েছে, উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে ভেস্তে দিতে পারে এমন যেকোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী সামরিক তৎপরতার জবাব তারা কঠোরভাবে দেবে। একই সঙ্গে রিয়াদ শান্তির সুরে আহ্বান জানিয়েছে, সদ্য দখল করা পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ হাদরামাউত ও আল মাহরা থেকে যেন দক্ষিণ ট্রানজিশনাল কাউন্সিল শান্তিপূর্ণভাবে সরে যায়।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এখন সময় এসেছে যুক্তির পথে হাঁটার। তার কথায়, বিচ্ছিন্নতাবাদী বাহিনীর উচিত দুই প্রদেশ ছেড়ে শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়া, যাতে সাধারণ মানুষের রক্ত আর না ঝরে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুরকি আল মালিকি জানিয়েছেন, উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ লঙ্ঘন করে এমন যেকোনো সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার ভাষায়, এর উদ্দেশ্য বেসামরিক নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা এবং শান্তি ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এসটিসি বাহিনী সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে, যদিও এর পক্ষে নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন এসটিসি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হাদরামাউতে তাদের অবস্থানে বিমান হামলার অভিযোগ তুলেছে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ায় ওয়াশিংটনও সংযমের আহ্বান জানিয়েছে।
এই মাসের শুরুতে এসটিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাহিনী সৌদি সমর্থিত সরকারের হাত থেকে হাদরামাউত ও আল মাহরার বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বহু বছর ধরে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসটিসি ও সরকার একসঙ্গে থাকলেও সাম্প্রতিক এই অগ্রযাত্রা সেই জোটে ফাটল ধরিয়েছে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য আবদুল্লাহ আল আলিমি সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি ইয়েমেনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি সৌদি আরবের আন্তরিক উদ্বেগের প্রতিফলন।
কাউন্সিলের প্রধান রাশাদ আল আলিমি জরুরি বৈঠকের পর বলেন, এসটিসির এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে, একসময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থন পাওয়া এসটিসি আবারও দক্ষিণ ইয়েমেনকে আলাদা রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। সৌদি হামলার অভিযোগের পরও তারা জানিয়েছে, এসব আঘাতে তারা দমে যাবে না।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নীরব তৎপরতা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনীতির পথেই এগোতে হবে। আজারবাইজানও সৌদি আরব ও আমিরাতের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক অভিযানের পর ইয়েমেন সরকার সৌদি জোটের কাছে আহ্বান জানিয়েছে, হাদরামাউতে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব সামরিক পদক্ষেপ নিতে। এক সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি সীমান্তের কাছে প্রায় পনেরো হাজার যোদ্ধা জড়ো করা হয়েছে, যদিও এখনো তাদের অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
এই পরিস্থিতি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্কেও চাপ সৃষ্টি করছে, কারণ ইয়েমেন সরকারের ভেতরে তারা ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবু শুক্রবার উভয় দেশই একসঙ্গে থাকার বার্তা দিয়েছে।
ইয়েমেনের সরকার নানা গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত এক ভঙ্গুর কাঠামো, যার মূল বন্ধন হুথিদের বিরোধিতা। ২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে দেশের উত্তরাঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই ক্ষত আজও শুকায়নি। দক্ষিণে নতুন করে জেগে ওঠা এই সংঘাত যেন আবারও ইয়েমেনের আকাশে যুদ্ধের ছায়া দীর্ঘ করে তুলছে।
















