১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত; ভারতীয় ডাম্পিং ও গ্যাসের উচ্চমূল্যে দিশেহারা দেশীয় স্পিনিং মিল মালিকরা
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ টেক্সটাইল শিল্প বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোকে বাঁচাতে সরকারের প্রতি ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। সংগঠনটি সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত না নিলে একের পর এক মিল বন্ধ হয়ে যাবে, যা দেশের সামগ্রিক শিল্প খাতে বিপর্যয় ডেকে আনবে।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | রাত ০৭:১৫ মিনিট
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি মতবিনিময় সভায় বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল টেক্সটাইল খাতের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “পরিস্থিতি আর সহনীয় পর্যায়ে নেই। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত, অন্যথায় এই শিল্পকে আর রক্ষা করা যাবে না।”
সভাপতির নিজের কারখানাও বন্ধের পথে
সংকটের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে বিটিএমএ সভাপতি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমার নিজের পাঁচটি মিলের মধ্যে একটি ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বাকিগুলোও বন্ধ করার উপায় খুঁজছি। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, এভাবে চলতে থাকলে হয়তো একদিন টেক্সটাইলবিহীন বিটিএমএ সভাপতিকেই দেখতে হবে।”
ভারতীয় ডাম্পিং ও অসুস্থ প্রতিযোগিতা
সভায় অভিযোগ করা হয়, প্রতিবেশী ভারত বাংলাদেশে তাদের স্থানীয় বাজারের তুলনায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে সুতা (ইয়ার্ন) রপ্তানি করছে। এই ‘ডাম্পিং’ মূল্যের সুতার কারণে দেশীয় মিলগুলো উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে সুতা বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, দেশীয় মিলগুলো একবার বন্ধ হয়ে গেলে ভারত ভবিষ্যতে তুলা ও সুতা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়ে বাংলাদেশকে জিম্মি করতে পারে।
গ্যাসের দাম নিয়ে ক্ষোভ
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে থাকলেও দেশে শিল্পের গ্যাসের দাম কেন কমানো হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শওকত আজিজ রাসেল। তিনি বলেন, “বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়লে দেশে বাড়ানো হয়, কিন্তু কমলে কেন কমানো হয় না? জ্বালানি খরচ পুনর্নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি।”
অবিক্রীত ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা
বিটিএমএ-র তথ্যমতে, বর্তমানে দেশের স্পিনিং মিলগুলোতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। পর্যাপ্ত চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি সুতার অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ডাম্পিংয়ের কারণে দেশীয় উদ্যোক্তারা এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বিটিএমএ নেতাদের দাবি, শিল্পকে বাঁচাতে হলে দ্রুত জ্বালানি মূল্য হ্রাস, ডাম্পিং রোধে কার্যকর অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি আরোপ এবং স্পিনিং মিলগুলোর জন্য বিশেষ নীতিগত সহায়তা প্রদান করতে হবে। অন্যথায় কয়েক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
















