মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের জেরে গুলির ঘটনা; যুবশক্তি নেত্রীর ফ্ল্যাটে এই হামলার নেপথ্যে অর্থের লেনদেন
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির বিভাগীয় আহ্বায়ক মোতালেব শিকদারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব। এই ঘটনায় জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ও এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম শিকদার ওরফে ‘ঢাকাইয়া শামীম’ এবং তার সহযোগী মাহদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শামীম নিজেই মোতালেব শিকদারকে গুলি করার কথা স্বীকার করেছেন।
২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় এনসিপির শ্রমিক নেতা মোতালেব শিকদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছিল। গত শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে নগরের বসুপাড়া এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল কারিগরসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৬। এই নিয়ে আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ালো চারজনে।
র্যাবের সংবাদ সম্মেলন ও লোমহর্ষক তথ্য
শনিবার দুপুরে র্যাব-৬-এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র ও উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ফুটেজ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ২৫ ডিসেম্বর প্রথমে সন্দেহভাজন আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যে শুক্রবার রাতে শামীম ও মাহদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তন্বীর ফ্ল্যাটে মাদক ও বিশৃঙ্খলা
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঘটনার দিন গত সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতীয় যুবশক্তির নেত্রী তনিমা তন্বীর ভাড়া বাসায় মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। গ্রেপ্তার শামীম জানিয়েছেন, ওই ফ্ল্যাটে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্বে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলি করেন। সৌভাগ্যবশত গুলিটি মাথার চামড়া ঘেঁষে বেরিয়ে যাওয়ায় মোতালেব প্রাণে বেঁচে যান।
কে এই ঢাকাইয়া শামীম?
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার শামীম শিকদার সোনাডাঙ্গা এলাকার একজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, মাদক পাচার এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি এবং অবৈধ কারবার নিয়ন্ত্রণই ছিল তার মূল পেশা। হামলার পর তিনি আত্মগোপনে ছিলেন, কিন্তু র্যাবের বিশেষ টিমের নজরদারি এড়াতে পারেননি।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৈয়মুর ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটি এখন ডিবি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ঘটনার সময় ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, এই ঘটনায় এর আগে এনসিপির যুব সংগঠন যুবশক্তির নেত্রী তনিমা তন্বীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতার ওপর হামলার আড়ালে মাদক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের বিষয়টি উঠে আসায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও বেশ অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
















