বিশ্বজুড়ে যখন বড়দিনের আনন্দ উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভারতের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর আতঙ্ক। উৎসবের আমেজের পরিবর্তে দেশটির আকাশে যেন কালো মেঘের ছায়া।
মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, হরিদ্বার থেকে শুরু করে খোদ রাজধানী দিল্লিতেও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর হামলা ও নিগ্রহের খবর পাওয়া গেছে। কোথাও সান্তাক্লজের টুপি খুলে ফেলতে বাধ্য করা হচ্ছে, আবার কোথাও প্রার্থনাসভায় ঢুকে ধর্মান্তরের অভিযোগে হামলা চালানো হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদসহ (ভিএইচপি) বিভিন্ন সংগঠনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সেখানে বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি অঞ্জু ভার্গব গির্জার একটি অনুষ্ঠানে ঢুকে এক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী ও শিশুদের লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই নেত্রী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারীকে কটাক্ষ করছেন। বিজেপি নেত্রীর দাবি, সেখানে জোরপূর্বক ধর্মান্তর করা হচ্ছিল। তবে গির্জা কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সেটি ছিল মূলত প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি দাতব্য অনুষ্ঠান। পুলিশ এখনো অভিযুক্ত নেত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এদিকে ছত্তিশগড়ের কানকের জেলার বাদেতেভদা গ্রামে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রে রূপ নিয়েছে। সেখানে এক খ্রিস্টান ব্যক্তির বাবার শেষকৃত্য ও সমাধিস্থলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে খ্রিস্টানদের বাড়িঘর ও গির্জার প্রার্থনাকক্ষে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রাজমান সালাম তার বাবার শেষকৃত্য খ্রিস্টান রীতিতে করতে চাইলে স্থানীয়রা বাধা দেয় এবং পরবর্তীতে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী হামলা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় অন্তত ২০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টো তাদেরই পিছু হটতে বাধ্য করেছে।
ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর এমন হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত শেষকৃত্য সংক্রান্ত অন্তত ২৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার ১৯টিই ঘটেছে ছত্তিশগড়ে। এর আগে গত এপ্রিলে গুজরাটের আহমেদাবাদে ইস্টার সানডের প্রার্থনার সময়ও বজরং দল ও ভিএইচপি হামলা চালিয়েছিল। সব মিলিয়ে উৎসবের আলোর বদলে ভারতের খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবার এক চরম অনিশ্চয়তা ও ভয়ের মধ্যে বড়দিন উদযাপন করতে যাচ্ছে।
















