দাদি খালেদা জিয়া, পরিবার ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরলেন তারেক রহমানের কন্যা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে তাঁর দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্মৃতি, প্রবাসজীবন এবং দেশের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা তুলে ধরেছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর মেয়ে জাইমা রহমান ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বেলা সোয়া দশটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এই পোস্টটি বিএনপির অফিশিয়াল ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, দলটির মিডিয়া সেল এবং তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের আইডি থেকেও শেয়ার করা হয়েছে।
পোস্টে জাইমা রহমান তাঁর দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-কে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তিনি লেখেন, পরিবারকে আগলে রাখা একজন মমতাময়ী অভিভাবক হিসেবেই দাদুকে তিনি সবচেয়ে বেশি মনে রেখেছেন। ছোটবেলায় স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে জয়ী হয়ে মেডেল পাওয়ার পর দাদুর কাছে গিয়ে নিজের সাফল্যের গল্প বলার স্মৃতিকে তিনি তাঁর জীবনের অন্যতম প্রিয় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাইমা রহমান লেখেন, দাদু তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী হলেও পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন শুধু ‘দাদু’। পরিবারের সদস্যদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা, মনোযোগ দিয়ে শোনার অভ্যাস এবং ছোট ছোট মুহূর্তে সাহস দেওয়ার বিষয়গুলো থেকেই তিনি নেতৃত্বের প্রথম শিক্ষা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
স্ট্যাটাসে প্রবাসজীবনের কথাও তুলে ধরেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, দেশের বাইরে কাটানো সতেরো বছর তাঁর জীবনকে বাস্তববাদী করেছে এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েছে, তবে হৃদয় ও মন সব সময় বাংলাদেশেই ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আইন পেশায় কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে দায়িত্বশীল হতে, মানুষের কষ্ট বুঝতে এবং ন্যায়বিচারের গুরুত্ব অনুধাবনে সহায়তা করেছে বলেও লেখেন তিনি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যাদের ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়ার অভিজ্ঞতা কোনো শ্রেণিকক্ষ দিতে পারে না। এই পথচলাই তাঁকে মানুষ হিসেবে কেমন হতে চান, সে বিষয়ে ভাবতে শিখিয়েছে।
পোস্টের শেষাংশে জাইমা রহমান জানান, তিনি তাঁর দাদাকে কখনো দেখেননি, তবে সততা ও দেশপ্রেমের যে আদর্শ পরিবারে বহমান, সেটিই তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনেক বছর পর দেশে ফেরার প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, দেশে ফেরা মানে আবেগ ও অনুভূতির এক অনন্য সংমিশ্রণ। তিনি দাদির পাশে থাকতে, বাবাকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে এবং একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চান বলে জানান। মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং নিজের অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশকে নতুন করে জানার ইচ্ছার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সবশেষে জাইমা রহমান লেখেন, তাঁর পরিবারকে ঘিরে মানুষের কৌতূহল ও প্রত্যাশা রয়েছে, আর সেই প্রত্যাশা পূরণের দায়ভারও তিনি অনুভব করেন। নিজের গল্প শেয়ার করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার গল্প একসঙ্গে ধারণ করে দেশ এগিয়ে যাবে।
















