সংবিধান ও আরপিও অনুযায়ী প্রার্থিতা বাতিলের স্পষ্ট শর্ত প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার আইনি কাঠামো স্পষ্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও আরপিও ১৯৭২ অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে অযোগ্যতার ৯টি কারণ।
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে প্রকাশিত ‘তথ্য কণিকা-১’–এ জানানো হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২–এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্ত প্রযোজ্য হবে।
প্রার্থী হওয়ার মৌলিক যোগ্যতা
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে—
- বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে
- মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখে বয়স কমপক্ষে ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে
- যেকোনো নির্বাচনি এলাকায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত থাকতে হবে
- নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হবে
যে ৯ কারণে প্রার্থী অযোগ্য হবেন
নিম্নোক্ত যে কোনো একটি শর্ত প্রযোজ্য হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সংসদ নির্বাচন বা গণভোট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—
- উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতিস্থ ঘোষিত হলে
- দেউলিয়া ঘোষিত হওয়ার পর দায় থেকে অব্যাহতি না পেলে
- আদালত কর্তৃক ফেরারি ঘোষিত হলে
- বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করলে (দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকলে তা ত্যাগ না করলে)
- আইসিটি আইনের নির্দিষ্ট ধারায় অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল হলে
- নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে ন্যূনতম দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে মুক্তির পর পাঁচ বছর না পার হলে
- প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি সংস্থা কিংবা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর তিন বছর না পেরোলে
- কৃষিঋণ ব্যতীত অন্য কোনো ঋণ বা কিস্তি মনোনয়নপত্র দাখিলের আগ পর্যন্ত পরিশোধে ব্যর্থ হলে
- টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা সরকারের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল বকেয়া থাকলে
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসব বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থী নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের লক্ষ্য।
একই সঙ্গে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে কমিশন বলেছে, ভোট দেওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার—এ অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
















