শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশে চলমান অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি জানান, বহুদিন পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেতে দেশের মানুষ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে, যা আগের স্বৈরাচারী শাসনের সময় জনগণের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং বিদেশে অবস্থানরত ওই নেত্রী সহিংসতায় উসকানি দিচ্ছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনের আর প্রায় ৫০ দিন বাকি রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি এটিকে স্মরণীয় একটি নির্বাচন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
টেলিফোন আলাপে শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড এবং তার জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর হাদি মারা যান। তিনি আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন।
হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তার সমর্থকেরা দাবি জানান, বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত করবেন।
প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই ফোনালাপে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও শুল্ক আলোচনা, পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়েও কথা হয়। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
হাদির মৃত্যুর পর সহিংসতায় বিভিন্ন গণমাধ্যম কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঢাকায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির ভাঙা কাঠামোতেও হামলার খবর পাওয়া যায়। চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে ময়মনসিংহের বালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা ও মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনাও দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে খুলনায় আরেক ছাত্রনেতা গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা আরও স্পষ্ট করেছে।
















