জুলাই-আগস্টের শহিদদের স্মরণ ও নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরলেন রাষ্ট্রদূত ড. মনোয়ার হোসেন
মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে মহান বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
তারিখ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে বর্ণাঢ্য ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পালিত হয়েছে বাংলাদেশের ৫৪তম বিজয় দিবস। রোববার (২১ ডিসেম্বর) ইয়াঙ্গুনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বিদেশি কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক বিশেষ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার চিত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ইয়াঙ্গুনের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রধান, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী নেতা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। বাংলাদেশের দেশাত্মবোধক গানের ছন্দে মিয়ানমার নারী উদ্যোক্তা নেটওয়ার্কের সদস্যদের মনোমুগ্ধকর নৃত্য এবং দূতাবাস পরিবারের শিশুদের মোহনীয় পরিবেশনা উপস্থিত অতিথিদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। সাংস্কৃতিক এই মেলবন্ধন দুই দেশের বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে ফুটে ওঠে।
নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও মহান বিজয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড. মো. মনোয়ার হোসেন তার বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদ ও নির্যাতিত নারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে তিনি জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে শহিদদের স্মরণ করে বলেন, “যারা বৈষম্যহীন নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাদের সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
রাষ্ট্রদূত আরও উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় ২৩ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফসল। তিনি দেশ পুনর্গঠনে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং তাদের জন্য বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
আনুষ্ঠানিকতা ও স্মৃতিচারণ বিজয় দিবসের মূল অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর মহান মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। এছাড়া বাংলাদেশের বিজয় এবং উন্নয়নের ওপর নির্মিত দুটি বিশেষ তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সবশেষে দূতাবাস পরিবার ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। এই আয়োজন ইয়াঙ্গুনে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও বিজয়ের গর্বকে আরও সজীব করে তোলে।
















