‘সিন্ডিকেটমুক্ত’ গণতান্ত্রিক বিএনপির প্রত্যাশা, তারেক রহমানকে ঘিরে তৃণমূলে উচ্ছ্বাস
দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ঘিরে নেতৃত্বের জবাবদিহিতা ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের প্রত্যাশা
১৮ বছর পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীরা আশা করছেন—দলীয় রাজনীতিতে সিন্ডিকেট ভেঙে প্রতিষ্ঠিত হবে স্বচ্ছ, কর্মীবান্ধব ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি।
দীর্ঘ ১৮ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি ওইদিন দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছে সরাসরি মায়ের চিকিৎসাধীন হাসপাতালে যাবেন। পথে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় দলীয়ভাবে তাকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এ উপলক্ষে সারাদেশ থেকে লাখো নেতাকর্মীর ঢাকায় আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দলের শীর্ষ নেতার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা। একই সঙ্গে সৃষ্টি হয়েছে গভীর প্রত্যাশা—এই প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ফিরবে গণতান্ত্রিক চর্চা, ভাঙবে সিন্ডিকেট ও ভাইতন্ত্রের বলয়, এবং ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা পাবেন যথাযথ মূল্যায়ন।
দলের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার পর এবং বিগত সরকারের দমন–পীড়নের কারণে দল সরাসরি নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়ে। সেই সময়ে তারেক রহমান দূর থেকে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখলেও বাস্তবতা হলো—তার অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী দলীয় সিদ্ধান্তে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
তৃণমূল নেতাদের অভিযোগ, বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটভিত্তিক প্রভাব, অনৈতিক লেনদেন এবং তৃণমূল মতামত উপেক্ষার ঘটনা ঘটেছে। এতে বহু পরীক্ষিত, নির্যাতিত ও জনপ্রিয় নেতা মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
দলের ভেতরে আলোচিত এসব ‘সিন্ডিকেট’ প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, উত্তরবঙ্গ, চট্টগ্রাম ও গুলশানকেন্দ্রিক একাধিক গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও তৃণমূলের প্রকৃত চিত্র অনেক সময় শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়নি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভোটাররা—বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম—স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, জবাবদিহি ও জনবান্ধব নেতৃত্ব প্রত্যাশা করে। বিতর্কিত ব্যক্তি বা পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতিকে তারা প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বিএনপির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব সামনে আনা।
দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি দলের জন্য একটি রাজনৈতিক টার্নিং পয়েন্ট। তিনি মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন, বাস্তবতা বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং যারা দলের নাম ভাঙিয়ে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে—তাদের লাগাম টেনে ধরতে পারবেন।
ছাত্রদল ও অঙ্গসংগঠনের সাবেক নেতারাও মনে করছেন, তারেক রহমানের সরাসরি উপস্থিতি দলে জবাবদিহিতা বাড়াবে, সিন্ডিকেট রাজনীতিকে দুর্বল করবে এবং ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়নের পথ খুলে দেবে। তাদের ভাষায়, “দূরত্বই ছিল সমস্যার মূল; উপস্থিতিই হবে সমাধান।”
সব মিলিয়ে বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একটি অভিন্ন প্রত্যাশা স্পষ্ট—তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে দলটি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া গণতান্ত্রিক, কর্মীবান্ধব ও সিন্ডিকেটমুক্ত বিএনপি হিসেবে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করবে।
















