সংস্কারপন্থী নেতাদের মনোনয়ন দিয়ে বিকল্প শক্তি গড়ে তোলার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিদ্রোহী এবং বঞ্চিত নেতাদের মনোনয়ন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। শাপলাকলি প্রতীকের দলটি গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। কেবল জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির যোদ্ধাদের ওপর নির্ভর না করে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বঞ্চিত অথচ জনসম্পৃক্ত নেতাদের নিজেদের কাতারে ভেড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে দলটি। মূলত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সংস্কারপন্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের জন্য এনসিপি তাদের দরজা উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
দলটির প্রধান সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানিয়েছেন যে প্রথম ধাপে তারা ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের তালিকায় চমক হিসেবে অন্যান্য দলের হেভিওয়েট এবং সংস্কারপন্থীদের নাম আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এনসিপির ভাষ্য অনুযায়ী যারা জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও নিজ দলে অবমূল্যায়িত হয়েছেন কিংবা অর্থের দাপটে কোণঠাসা হয়েছেন তাদের জন্য এই নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মটি কাজ করবে।
নির্বাচনী জোটের ক্ষেত্রেও নমনীয় অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। নতুন গঠিত গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটকে শক্তিশালী করতে দলটি নিজেদের নিশ্চিত আসনগুলোতেও শরিকদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে প্রস্তুত। এই জোটে এনসিপির সঙ্গে থাকছে আমার বাংলাদেশ পার্টি বা এবি পার্টি এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। জোটের নেতারা মনে করেন এটি কেবল নির্বাচনের জন্য কোনো সমঝোতা নয় বরং রাষ্ট্র সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার।
নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি পালনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এনসিপি। দলীয় প্রার্থীদের জানানো হয়েছে যে প্রচারণায় নির্ধারিত ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করলে কিংবা আইন বহির্ভূত পোস্টার ও ব্যানারের ব্যবহার করলে সরাসরি মনোনয়ন বাতিল করা হবে। দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।
আলোচনা রয়েছে যে সদ্য পদত্যাগ করা দুই ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদও এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন। হাদি ইস্যু এবং অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে বিষয়টি কিছুটা পিছিয়ে গেলেও আগামী সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। স্বচ্ছতা এবং মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে এনসিপি একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠায় আগ্রহী।
















