বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রনেতা ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ভারতের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হলে এর প্রভাব সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়বে এবং প্রয়োজনে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
সোমবার ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজিত এক সর্বদলীয় প্রতিবাদ সমাবেশে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে যারা ভূমিকা রাখছে, তাদের যদি ভারত আশ্রয় দেয়, তাহলে বাংলাদেশও জবাব দিতে বাধ্য হবে। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সম্ভাবনা, ভোটাধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি যারা সম্মান দেখায় না, তাদের প্রশ্রয় দিলে এর পরিণতি আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।
হাসনাত বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও বাংলাদেশ নানা ‘শকুনের’ চাপে রয়েছে, যারা দেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে চায়। তিনি সরাসরি কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করলেও বক্তব্যের ইঙ্গিতে ভারতের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ে দেন।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও একই সমাবেশে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তিনি বলেন, বিজয় দিবসে এবার উদযাপনের পরিবর্তে প্রতিরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে। তার ভাষায়, ঢাকা ও সারা দেশে ভারতের প্রভাব ও বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশটি সম্প্রতি সংগঠনটির মুখপাত্র ও স্বতন্ত্র সংসদ প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনার পর অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমাবেশে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, হাদির ওপর হামলা শুধু একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়, বরং জুলাই আন্দোলনের চেতনাকেই আঘাত করা হয়েছে। এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অভিযোগ করেন, এ হামলার পেছনে ভারত ও আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যদিও এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের প্রশাসন, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও গণমাধ্যমে পুনরায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ভারতকে আহ্বান জানায়, যেন হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে না পারে এবং প্রবেশ করলে তাদের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা করা হয়। জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশসহ বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো কর্মকাণ্ডে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
















