দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত কার্যক্রমের তুলনামূলক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
গণ-অভ্যুত্থানের পর দুর্নীতি দমনে চলমান অভিযানে বড় সাফল্য দেখিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। চলতি বছরের ১১ মাসে সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি আসামির বিরুদ্ধে মামলা ও চার্জশিট দাখিল, রেকর্ড সংখ্যক সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে সংস্থাটি। এই তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা।
গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান জোরদার করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে মামলা দায়ের, চার্জশিট প্রদান, এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার ক্ষেত্রে কমিশন রেকর্ড সাফল্য অর্জন করেছে।
দুদকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে সংস্থাটি বিভিন্ন শ্রেণীর ২,২৯৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৪১টি নতুন মামলা দায়ের করেছে এবং ১,২০৩ জন আসামির বিরুদ্ধে ৩৪৯টি মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে। সব মিলিয়ে এই ১১ মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের জালে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভিআইপি আসামি ফেঁসেছেন।
এই আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবারের সদস্য শেখ রেহেনা, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ প্রভাবশালী শেখ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া, সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ওবায়েদুল কাদের, আসাদুজ্জামান খান, দীপু মনি, আনিসুল হক, রাশেদ খান মেননসহ আওয়ামী লীগ সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপি এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গ্রুপ যেমন এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকো গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ ও নাসা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা রয়েছেন।
গুরুত্বপূর্ণভাবে, এই সময়ে নতুন করে ১,০৬৩টি দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। সম্পদের হিসাবে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত মাত্র ১১ মাসে দেশে ও বিদেশে প্রায় ২৬ হাজার ১৩ কোটি টাকারও বেশি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে, যা পূর্বের পাঁচ বছরের (২০২০-২০২৪) মোট ক্রোককৃত সম্পদের (৩,৪৫০ কোটি টাকা) তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি।
দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এই প্রসঙ্গে বলেছেন, “দুদক যথার্থ আইনী শক্তিতে মহীয়ান। তবে বিচারকাজে আরও গতিশীলতা আনতে কমিশনের বিশেষ আদালতের প্রয়োজন রয়েছে।”
এই ১১ মাসে ২৪৯টি বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে, যার মধ্যে ১২৬টিতে সাজা হয়েছে এবং ৫ হাজার ৫৮ কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
















