কয়রায় পৃথক অভিযানে ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর হাত থেকে জেলে উদ্ধার; হরিণের মাংস ও ফাঁদসহ চার শিকারি আটক
সুন্দরবনের কয়রায় কোস্ট গার্ডের পৃথক দুই অভিযানে অস্ত্র–গোলাবারুদ উদ্ধার, জিম্মি চার জেলে মুক্ত এবং হরিণের মাংসসহ চার শিকারি আটক করা হয়েছে। দস্যু দমন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
সুন্দরবনের কয়রায় কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি চার জেলে এবং জব্দ করা হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ। পৃথক দুটি অভিযানে হরিণের মাংস, মাথা এবং শিকারের ফাঁদসহ চার শিকারিকেও আটক করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড জানায়, দস্যু ও অবৈধ শিকার দমনে এসব অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হচ্ছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়— দুর্ধর্ষ ডাকাত দুলাভাই বাহিনীর সদস্যরা কয়রা নদীর নাগজোড়া খালসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে রোববার (৭ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে কোস্ট গার্ড স্টেশন কয়রার একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়। অভিযানস্থল থেকে উদ্ধার হয় একটি একনলা বন্দুক, এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও এক রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ। ডাকাতরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেলেও তাদের হাতে জিম্মি থাকা চার জেলেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধারকৃত জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, আর জব্দ করা অস্ত্র–গোলাবারুদের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলছে।
একই রাতে আরেকটি গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে কয়রা নদীর ময়দাপেশা খাল এলাকায় কোস্ট গার্ড আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে ৭২ কেজি হরিণের মাংস, দুটি হরিণের মাথা, ৩০০ মিটার লম্বা শিকারের ফাঁদ ও চার শিকারিকে আটক করা হয়। জব্দ করা বন্যপ্রাণীর অংশ ও ফাঁদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত রাখা এবং বন্যপ্রাণী হত্যা–পাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চালানো হবে।
















