বুধবার যুক্তরাজ্যের বার্ষিক বাজেট ঘোষণা করা হবে এমন এক সময় যখন দেশের আর্থিক অবস্থা দুর্বল এবং ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির প্রতি জনঅসন্তোষ বাড়ছে। চ্যান্সেলর রেচেল রিভসকে এখন কঠিন দায়িত্ব নিতে হচ্ছে একদিকে সরকারি আর্থিক ঘাটতি সামলানো, অন্যদিকে নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে কর ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে সীমিত সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য রাখা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রিভস এমন এক পরিস্থিতিতে আছেন যেখানে তাকে বাধ্য হয়ে নিজের পরিকল্পনায় ছাড় দিতে হবে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইকনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল রিসার্চ এ অবস্থাকে বলছে “অসম্ভব ত্রিধা-সঙ্কট”—উচ্চ কর, ব্যয় কমানো অথবা বাজেটের নিয়ম বদল—তিনটির একটাকে বেছে নিতেই হবে।
যুক্তরাজ্য গত কয়েক বছর ধরে দুর্বল প্রবৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং দ্রুত বাড়তে থাকা জাতীয় ঋণের সঙ্গে লড়ছে। জি৭ দেশের মধ্যে জার্মানির পর যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে দুর্বল। ২০১৯ সালের শেষ থেকে ২০২4 সালের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের জিডিপি বেড়েছে মাত্র ১.৭ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ৮.৭ শতাংশ।
২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া প্রান্তিকে তা নেমে আসে মাত্র ০.১ শতাংশে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদের হার পৌঁছেছে ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে। শুধু অক্টোবরেই সরকারকে ১৭.৪ বিলিয়ন পাউন্ড ধার নিতে হয়েছে ব্যয় মেটাতে।
রিভস ক্ষমতায় এসেই কর বাড়িয়েছিলেন প্রায় ৪০ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ছিল কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কর বৃদ্ধি। এরপরও ঋণের সুদ ও সরকারের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বাজেটে আবারও বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, তার লক্ষ্য পূরণে অতিরিক্ত ২০–৪১ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে।
রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। বাজেটের আগে জনমত জরিপে লেবারের জনপ্রিয়তা কমে গেছে এবং ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে দল তাদের পেছনে ফেলে দিয়েছে। বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষও অপেক্ষায় আছে বাজেটে কী ঘোষণা আসছে, যা অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক দুরবস্থার পিছনে দীর্ঘমেয়াদি কারণও রয়েছে—বিশেষ করে শ্রম উৎপাদনশীলতার দুর্বলতা এবং ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে কম বিনিয়োগ। উৎপাদনশীলতার দিক থেকে জি৭–এ যুক্তরাজ্য মাঝারি অবস্থানে থাকলেও গত ১৫ বছরে এর প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও জার্মানির তুলনায় অনেক কম। ব্রেক্সিট এই সংকটকে আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের বাজেট দপ্তর বলছে, ব্রেক্সিট দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা ৪ শতাংশ কমিয়ে দেবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানে করব্যবস্থায় সংস্কার, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় নীতিতে পরিবর্তন প্রয়োজন। কিন্তু রিভসের বাজেটে বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের বদলে উচ্চ কর আরোপের সম্ভাবনাই বেশি।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যুক্তরাজ্যের কল্যাণ ব্যবস্থাতেও সংস্কার প্রয়োজন হবে, কারণ জনসংখ্যার বার্ধক্য ও কম জন্মহার বিদ্যমান পেনশন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
















