দালালের প্রলোভনে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের পর আসামে আটক হন চার তরুণী, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর
দালালের প্রলোভনে উন্নত জীবনের আশায় ভারতে প্রবেশ করা চার বাংলাদেশি তরুণীকে আটক করার পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়।
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর ২০২৫:
উন্নত জীবনের আশায় দালালের প্রলোভনে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশের পর আটক হওয়া চার বাংলাদেশি তরুণীকে আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।
বুধবার সন্ধ্যায় কুড়িগ্রামের কচাকাটা থানাধীন পূর্বকেদার সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে এই হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে দায়িত্ব পালন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ফেরত আনা তরুণীরা হলেন পাবনার আঁখি খাতুন (২০), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদিবা আক্তার (২৩), নেত্রকোণার শিরিনা আক্তার (২৬) এবং শরীয়তপুরের তাসমিয়া আক্তার (১৮)। তারা সবাই রাজধানীর নতুনবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনজন বিউটি পার্লারে এবং একজন পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
ভুক্তভোগী আঁখি খাতুন জানান, পরিচিত এক নারী জান্নাতের প্রলোভনে গত ২২ নভেম্বর কাউকে না জানিয়ে সিলেটের জাফলং সীমান্ত দিয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। সীমান্ত পার হওয়ার পর একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে তাদের আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে নেওয়া হয়। সেখানে ২৩ নভেম্বর স্থানীয় পুলিশ তাদের আটক করে।
পরে বিএসএফের উদ্যোগে বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
বিজিবির পক্ষে কেদার কোম্পানি সদর থেকে নেতৃত্ব দেন হাবিলদার শাহজাহান আলী এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন রুস্তম ক্যাম্পের ইনস্পেক্টর ধিরেন্দ্র কুমার। শাহজাহান আলী জানান, আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে চার তরুণীকে বিজিবির হেফাজতে নেওয়ার পর কচাকাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, তরুণীদের অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হবে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, কাজ ও উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে দালালচক্র কীভাবে তরুণীদের ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জীবনের জন্য মারাত্মক বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
















