যুক্তরাষ্ট্রের ছয় ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাক্ষাৎকারের অনুরোধ জানিয়েছে এফবিআই, যারা সম্প্রতি একটি ভিডিও বার্তায় মার্কিন সেনাদের অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকার করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিষয়টি প্রকাশ করেছেন অভিযুক্ত আইনপ্রণেতারাই।
এই পদক্ষেপ আসে পেন্টাগন সেনেটর মার্ক কেলির বিরুদ্ধে সামরিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত শুরুর ঘোষণার একদিন পর। সাবেক নৌবাহিনীর সদস্য কেলি সেই ভিডিওতে অংশ নেওয়া ছয় আইনপ্রণেতার একজন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগেই তাদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহের অভিযোগ এনেছিলেন এবং সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন—এই অপরাধের “শাস্তি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে”।
মিশিগানের সেনেটর এলিসা স্লটকিন সাংবাদিকদের জানান, “এফবিআইয়ের কাউন্টারটেররিজম বিভাগ কংগ্রেসের সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছে যে তারা আমাদের ছয়জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।” তিনি এটিকে ট্রাম্পের “ভয় দেখানোর কৌশল” বলে আখ্যা দেন।
আরও চার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি—জেসন ক্রো, ম্যাগি গুডল্যান্ডার, ক্রিস ডেলুজিও ও ক্রিসি হুলাহান—এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ট্রাম্প এফবিআইকে ব্যবহার করছেন কংগ্রেস সদস্যদের ভয় দেখাতে ও হয়রানি করতে। এফবিআই সাক্ষাৎকারের অনুরোধ জানিয়েছে।” তারা বলেন, “যতই ভয় দেখানো হোক, আমরা সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব পালন চালিয়ে যাব।”
ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, এফবিআই প্রথমে খতিয়ে দেখছে কোনো বেআইনি কাজ হয়েছে কি না।
এদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক নথিতে কেলিকে নৌবাহিনীর সচিবের কাছে পাঠিয়ে বলেছেন, ভিডিওতে তাঁর মন্তব্য “সম্ভাব্য বেআইনি” হতে পারে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্তের ফল চাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনৈতিক বিরোধে জড়িয়ে পড়ার এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সমালোচনায় মুখ খুলেছেন রিপাবলিকানরাও। আলাস্কার সেনেটর লিসা মারকাউস্কি বলেন, অবৈধ আদেশ অমান্য করার অধিকার ব্যাখ্যা করায় তাঁদের বিরুদ্ধে “রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা বিপজ্জনক ও ভুল”।
আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভিডিওতে তাঁদের বক্তব্য মার্কিন আইনসম্মত—কারণ সেনারা প্রেসিডেন্ট নয়, সংবিধানের প্রতি শপথ নেয় এবং কেবল বৈধ আদেশ পালন বাধ্যতামূলক। ভিডিওতে তারা কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতির উল্লেখ করেননি।
মিশিগানে এক অনুষ্ঠানে স্লটকিন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ক্যারিবীয় সাগরে ছোট নৌকা ধ্বংসের আদেশ বা মার্কিন শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েনের চেষ্টা নিয়ে অনেক সামরিক সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। “অনেকে বলছিল, ‘আমাকে এমন কাজে পাঠানো হচ্ছে যেখানে ভুল কিছু করতে বলা হতে পারে।’ এই উদ্বেগ থেকেই ভিডিওর ধারণা এসেছে।”
আইন অনুযায়ী, সেনা কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে অবৈধ আদেশ প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য—এবং ইতিহাস দেখিয়েছে, ‘শুধু আদেশ পালন করেছি’ বলে দায় এড়ানো যায় না।
















