আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ই-পারিবারিক আদালত চালু হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমবে, সময় বাঁচবে এবং মামলার জট অর্ধেকে নেমে আসবে। বিচার ব্যবস্থার ডিজিটাল সংস্কারে এটি হবে বড় পদক্ষেপ।
বিচার ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের নতুন যুগের সূচনা
২৬ নভেম্বর ২০২৫ | ঢাকা
ই-পারিবারিক আদালত চালুর মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থায় ভোগান্তি ও দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ড. নজরুল বলেন,
“ই-পারিবারিক আদালত চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীদের আর আগের মতো ঘুরতে হবে না। এতে ভোগান্তি কমবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে এবং বিচার প্রক্রিয়া হবে আরও সময়সাশ্রয়ী।”
তিনি আরও বলেন, “এখন সময় এসেছে বিচার ব্যবস্থাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের পথে এগিয়ে যাওয়ার। আমাদের ধন্যবাদ দেওয়ার দরকার নেই, বরং এই উদ্যোগগুলোকে সন্তানের মতো যত্নে লালন করলেই যথেষ্ট।”
আইন উপদেষ্টা জানান, আইন মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে ২১টি সংস্কার (রিফর্ম) কার্যকর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যে সরকার আসবে, তারা দেশপ্রেমের জায়গা থেকে এই সংস্কারগুলো ধরে রাখবে। আমাদের অনুরোধ, এসব উদ্যোগ যেন অব্যাহত থাকে।”
তিনি জানান, বর্তমানে পারিবারিক মামলায় বিনা খরচে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে এটি ২০টি জেলায় চালু হয়েছে এবং শিগগিরই ৬৪টি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন, “আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মামলার জট অন্তত ৫০ শতাংশ কমে আসবে।”
সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,
“সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউকে সংস্কার সম্পন্ন করতে ১০ বছর লেগেছিল। তাই রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। দেশের মানুষের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি না করে কোনো সংস্কার টেকসই হয় না। বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গিই সংস্কারের সফলতার মূল চাবিকাঠি।”
















