দিল্লির মৌলানা আজাদ মেডিকেল কলেজ ও লোকনায়ক হাসপাতালে পরিচালিত এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর কানে শান্ত সঙ্গীত বাজালে অ্যানেস্থেশিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের মাত্রা কমে এবং রোগী দ্রুত ও পরিষ্কারভাবে চেতনা ফিরে পান। ‘মিউজিক অ্যান্ড মেডিসিন’ জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা সাধারণ অ্যানেস্থেশিয়ার সময় সঙ্গীতের কার্যকারিতা নিয়ে এখন পর্যন্ত অন্যতম শক্তিশালী প্রমাণ দিয়েছে।
গবেষণাটি ল্যাপারোস্কোপিক কোলেসিস্টেকটমি বা গলব্লাডার অপসারণের স্বল্পমেয়াদি অস্ত্রোপচারকে কেন্দ্র করে করা হয়, যেখানে রোগীর দ্রুত ও ঝামেলাহীন সুস্থ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। অ্যানেস্থেশিয়ায় থাকা অবস্থায়ও দেহের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া—হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বৃদ্ধি—যথেষ্ট থাকে, যা নিয়ন্ত্রণ করতে সঠিক সমন্বয়ে একাধিক ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
গবেষকদের মতে, অচেতন অবস্থায়ও মস্তিষ্কের শ্রবণ-প্রক্রিয়া আংশিক সক্রিয় থাকে। তাই রোগীর মাথায় নোয়াইজ-ক্যান্সেলিং হেডফোন পরিয়ে নরম বাঁশি বা পিয়ানোর সুর বাজানো হলে মস্তিষ্কে এক ধরনের শান্ত প্রভাব সৃষ্টি হয়, যা কম মাত্রার প্রোপোফল ও ফেন্টানাইল প্রয়োগে সহায়তা করে।
গবেষণায় ২০ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৫৬ জন রোগীকে দুই দলে ভাগ করা হয়—দু’দলেই একই ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও কেবল একটি দল সঙ্গীত শোনে। ফলাফলে দেখা যায়, সঙ্গীত শোনানো রোগীদের রক্তচাপ স্থিতিশীল ছিল, কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোন কম ছিল এবং কম পরিমাণ অ্যানেস্থেটিক ও পেইনকিলার প্রয়োজন হয়েছিল।
গবেষণা দলের সদস্যরা বলেন, অচেতন মস্তিষ্কেও ইতিবাচক উদ্দীপনার প্রভাব পড়ে, আর সঙ্গীত অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশে মানবিকতা যোগ করে। তারা মনে করেন, এ ধরনের সহজ ও কম খরচের পদ্ধতি ভবিষ্যতে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী যত্নের ধারণাকেও বদলে দিতে পারে।
তারা এখন সেডেশনের সময় সঙ্গীত ব্যবহারের ওপর নতুন গবেষণা প্রস্তুত করছেন। প্রাথমিক ফলাফল ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিচ্ছে—মৃদু কিছু সুর চিকিৎসা-প্রক্রিয়ায় অদেখা এক ভূমিকা পালন করতে পারে।
















