নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্য অঞ্চলে বন্দুকধারীদের হাতে অপহৃত শত শত শিশুর ভিড়ে হঠাৎ জেগে উঠেছে একটুকরো আশার আলো। সেন্ট মেরিজ ক্যাথলিক স্কুল থেকে অপহৃত ৩০৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে অন্তত ৫০ জন পালিয়ে নিজেদের পরিবারের কাছে ফিরেছে—খ্রিস্টান সংগঠন কান-এর (CAN) এমন ঘোষণায় ভাঙা হৃদয়ের মানুষের চোখে ফিরেছে অশ্রুসিক্ত স্বস্তি।
গত শুক্রবার নিগার স্টেটের সেই ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালায় অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা। মুহূর্তেই তারা শিশুদের ভবিষ্যৎ ছিনিয়ে নিয়ে যায়—শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বপ্ন সবকিছু পদদলিত করে টেনে নিয়ে যায় ১২ জন শিক্ষকসহ ৩০৩ শিশুকে। এটি দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অপহরণের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
রবিবার এক বিবৃতিতে কান-এর রাজ্য সভাপতি রেভারেন্ড বুলুস দাউয়া ইয়োহান্না জানান, যারা পালিয়ে এসেছে তারা সুস্থ আছে এবং পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে তার কণ্ঠে ছিল ভারী আর্তি—‘‘এই ৫০ জনের ফেরায় আমরা শান্তির শ্বাস নিলেও বাকিদের জন্য প্রার্থনা থামানো যাবে না। তাদের নিরাপদ ফেরার অপেক্ষায় দেশজুড়ে আমাদের প্রার্থনা চলুক।’’
এই অপহরণ ঘটনার মাত্র চার দিন আগে পার্শ্ববর্তী কেব্বি স্টেটের মাগা শহরের একটি মাধ্যমিক স্কুলে হামলা করে আরেকদল অস্ত্রধারী। সেখানে ২৫ জন স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে যায় তারা, নিহত হয় স্কুলের উপ-প্রধান শিক্ষক। পরে এক ছাত্রী পালিয়ে এলেও এখনো ২৪ জন নিখোঁজ।
দুই ঘটনারই হামলাকারীদের পরিচয় অজানা। কোনো গোষ্ঠী দায় স্বীকারও করেনি। নিরাপত্তা বাহিনী চারদিকে অভিযান চালাচ্ছে—জঙ্গল, ধানখেত, ঝোপঝাড়, নদীপথ সব খুঁজে দেখা হচ্ছে। পুলিশ, সেনা, এমনকি স্থানীয় শিকারিরাও যুক্ত হয়েছে উদ্ধারকাজে।
জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বিবৃতিতে বলেছে, শিশু ও শিক্ষকদের অপহরণ মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ। তারা অবিলম্বে সব শিশুর নিরাপদ মুক্তি দাবি করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানদের ওপর ‘নির্বাচিত হত্যাকাণ্ড’ চলছে বলে অভিযোগ করে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। ডানপন্থী ও ইভানজেলিকাল চক্রে তার এই বক্তব্যকে স্বাগত জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও বলেন, নাইজেরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে তিনি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সহিংসতা রুখতে একযোগে কাজ করা হচ্ছে।
তবে নাইজেরিয়া সরকার এই বর্ণনাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের বক্তব্য, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলায় মুসলিমরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী—ধর্ম নয়, সন্ত্রাসই এসব হামলার মূল চালিকাশক্তি।
নাইজেরিয়ার শিশুরা এখনো অন্ধকারের ভেতর বন্দি। তবে ফিরে আসা ৫০ শিশুর পদধ্বনি যেন বলে—আশা কখনো নিভে যায় না। তাদের ফিরে পাওয়ার গল্প দেশটিকে মনে করিয়ে দিচ্ছে, মানবতার আলো যতো ক্ষীণই হোক, তা আবার জ্বলে ওঠার পথ খুঁজে নেয়।
















