ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত হওয়ায় তরুণ প্রবাসীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উচ্ছ্বাস। পোস্টাল ভোট অ্যাপে নিবন্ধন সম্পন্ন করলেই বিদেশে বসেই ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলবে। ইসি দেশভিত্তিক পাঁচদিন করে নিবন্ধনের সময় নির্ধারণ করেছে, যার অংশ হিসেবে কুয়েতপ্রবাসীরা ১৪ ডিসেম্বর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত নিবন্ধন করতে পারবেন।
তবে নিবন্ধনের পর ব্যালট পেপার প্রবাসীদের কাছে পৌঁছানো এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট সময়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে কুয়েতপ্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে অনেকেরই জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। স্বল্প সময়ের জন্য দেশে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে না পারায় বহু প্রবাসী এবারও ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় আছেন
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভোটার যদি ব্যালটে ভোট দিলেও ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না করেন, তাহলে সেই ভোট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট আয়োজন করতে ভোটারপ্রতি খরচ হবে ৭০০ টাকা, যার জন্য ডাক বিভাগের সঙ্গে ইতোমধ্যে চুক্তি করেছে নির্বাচন কমিশন।
ব্যালট পেপারের খামের সঙ্গে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র। ব্যালটে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি ঘোষণাপত্রে ভোটারকে নিজ হাতে স্বাক্ষর করতে হবে, যাতে নিশ্চিত হয় তিনি নিজেই ভোট দিয়েছেন। প্রবাসীর ঠিকানা ও নিবন্ধন সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তার তথ্য পৌঁছে যাবে এবং আলাদা ভোটার তালিকাও প্রস্তুত করা হবে।
ইসির ধারণা, নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলাকালীনই জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এরপর প্রবাসী ভোটারদের অপেক্ষা করতে হবে ব্যালট পেপার পৌঁছানোর জন্য।
একসময় ব্যস্ত থাকা ডাক বিভাগের কার্যক্রম এখন প্রায় অচল। প্রযুক্তির উন্নতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুততার কারণে চিঠিপত্র বিনিময় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে-বিদেশে বহু পোস্ট অফিস অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই প্রবাসীরা প্রশ্ন তুলছেন, পোস্টাল ব্যালট সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে পৌঁছাবে কি না। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক আরও সহজ কোনো ভোট প্রক্রিয়া চালুর দাবিও জানাচ্ছেন তারা।
















