২৭ বছর পর ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা গেল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। লাখো মানুষ বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। পূর্ণগ্রাসের পথে প্রায় দুই মিনিটের জন্য দিনের আলো অনেকটাই ম্লান হয়ে রাতের মতো পরিবেশ তৈরি হয়।
গ্রিনিচ সময় অনুযায়ী বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটে সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। চাঁদ ধীরে ধীরে সূর্যের সামনে চলে আসার সঙ্গে সঙ্গে দিনের আলো কমতে থাকে। একপর্যায়ে চাঁদ সূর্যের পুরো দৃশ্যমান অংশ ঢেকে ফেললে শুরু হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ।
পূর্ণগ্রাসের পথটি উত্তর রাশিয়া, গ্রিনল্যান্ড ও আইসল্যান্ড হয়ে স্পেন এবং পর্তুগালের একটি অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। এই পথে প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্রায় সম্পূর্ণ অন্ধকারে সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ পান।
পশ্চিম ইউরোপের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ছাড়াও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকা, কানাডার বেশির ভাগ এলাকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের কিছু অংশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা গেছে।
স্পেনের বিভিন্ন এলাকা থেকে সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। পূর্ণগ্রাসের সময় সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল বলয় তৈরি হয় এবং দিনের আকাশে হঠাৎ রাতের মতো আবহ তৈরি হয়।
জার্মানির বার্লিনে একটি টেলিভিশন টাওয়ারের পেছনে সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়। ব্রান্ডেনবুর্গ অঞ্চলে খোলা মাঠে দাঁড়িয়েও মানুষ বিরল এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেন।
গ্রিনল্যান্ডের উপকূল থেকে একটি প্রমোদতরীতে থাকা মানুষও পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখেছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সারায়েভো, অস্ট্রিয়ার সালজবুর্গ ও ভিয়েনা এবং সার্বিয়ার বেলগ্রেড থেকেও সূর্যগ্রহণের দৃশ্য দেখা যায়।
ভিয়েনার একটি বিনোদনকেন্দ্রে মানুষ একত্র হয়ে আংশিক সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করেন। স্পেনের একটি জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণকেন্দ্র থেকেও চাঁদের আড়ালে সূর্যের পুরোপুরি ঢেকে যাওয়ার মুহূর্ত ধারণ করা হয়।
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের দৃশ্যমান অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়। তখন অল্প সময়ের জন্য দিনের আকাশে রাতের মতো অন্ধকার তৈরি হয়।
ইউরোপজুড়ে এবারের সূর্যগ্রহণ সাধারণ মানুষের পাশাপাশি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। বিভিন্ন স্থানে মানুষ আগেভাগেই জড়ো হয়ে বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন।
















