অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর ইসরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ অঞ্চলটির অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক জীবনকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষক জুস্ট হিলটারম্যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৬৭ সালের পর থেকে ইসরায়েল সামরিক চেকপোস্ট, সড়ক অবরোধ, লোহার গেট, বসতি নির্মাণ এবং পৃথক সড়কব্যবস্থার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক ও সামাজিক কাঠামো আমূল পরিবর্তন করেছে। আগে যেখানে জেরুজালেম থেকে রামাল্লায় পৌঁছাতে ২০–৩০ মিনিট লাগত, এখন সেই যাত্রায় কয়েক ঘণ্টাও লেগে যেতে পারে।
বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর নিরাপত্তার অজুহাতে চলাচলে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এতে কৃষিজমিতে প্রবেশ, পণ্য পরিবহন, বিদেশ ভ্রমণ এবং জেরুজালেম ও ইসরায়েলে কাজের অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলে কর্মরত ফিলিস্তিনি শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার থেকে কমে প্রায় ৪৪ হাজারে নেমে এসেছে। ফলে বহু পরিবার আয়ের প্রধান উৎস হারিয়েছে এবং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়েছে।
চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরকে ছোট ছোট বিচ্ছিন্ন এলাকায় ভাগ করে প্রশাসনিক ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
লেখকের মতে, এসব বিধিনিষেধ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষোভ ও প্রতিরোধের নতুন ভিত্তি তৈরি করছে এবং ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করছে।
















