গত বছর উৎক্ষেপণের পর মহাকাশে ভেসে থাকা স্পেসএক্সের একটি ফ্যালকন-৯ রকেটের দ্বিতীয় ধাপ বুধবার চাঁদের পৃষ্ঠে উচ্চগতিতে আঘাত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি খালি চোখে দেখা সম্ভব নয় এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা টেলিস্কোপের মাধ্যমে এর প্রভাব নিশ্চিত করার কাজ করছেন।
রকেটের প্রায় ৪ টন ওজনের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৮,৬৯০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের আইনস্টাইন ক্রেটার এলাকায় আঘাত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাঁদের পৃষ্ঠে নতুন একটি গর্ত সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ধুলোর মেঘ তৈরি হতে পারে। তবে নাসা জানিয়েছে, এ ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ঝুঁকি নেই।
রকেটটি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে দুটি চন্দ্রযান বহন করে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। প্রথম ধাপ পৃথিবীতে ফিরে এলেও দ্বিতীয় ধাপটি চন্দ্রযানকে নির্ধারিত পথে পাঠানোর পর মহাকাশেই থেকে যায়। পরে সূর্যের প্রভাব ও মহাকর্ষীয় শক্তির কারণে এটি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চাঁদের দিকে ধাবিত হয়।
নাসা ও স্পেসএক্স জানিয়েছে, এটি পরিকল্পিত সংঘর্ষ ছিল না। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে উভয় সংস্থা নতুন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে নাসার আর্টেমিস কর্মসূচির আওতায় চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কারণে চাঁদের কক্ষপথে মহাকাশ বর্জ্য নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা পৃথিবীর জন্য বিপজ্জনক না হলেও মহাকাশ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে প্রায় ৪৬ হাজারের বেশি মহাকাশ বর্জ্য ঘুরছে, যেগুলোর সম্মিলিত ওজন প্রায় ১৭ হাজার টন।
















