চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ মুদ্রানীতি পর্যালোচনায় ইঙ্গিত মিলেছে, দেশের অর্থনীতিতে কাঠামোগত বৈষম্য আরও স্পষ্ট হলেও আপাতত বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত মাত্রার শিথিল মুদ্রানীতি ও ধাপে ধাপে সমন্বয়ই অব্যাহত থাকবে।
সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির গতি প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় কিছুটা কমেছে। উৎপাদন পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলক কম থাকায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা এখনও দুর্বল রয়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়লেও ভোগ ও বিনিয়োগে প্রত্যাশিত গতি আসেনি।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি এখন দুটি ভিন্ন ধারায় এগোচ্ছে। একদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ উচ্চপ্রযুক্তি শিল্প দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে, অন্যদিকে আবাসন খাতসহ ঐতিহ্যবাহী শিল্পগুলো এখনও চাপের মধ্যে রয়েছে। এই বৈষম্যের কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বছরের শুরু থেকে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করলেও অভ্যন্তরীণ ভোগ চাহিদা প্রত্যাশামতো বাড়েনি। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিদেশি বাজারের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। এ অবস্থায় অভ্যন্তরীণ বাজার শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং।
মুদ্রানীতির ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুদহার কমানো বা নগদ সংরক্ষণ অনুপাত হ্রাসের পরিবর্তে বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত সমন্বয়ের পথ অনুসরণ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতির বর্তমান গতিপ্রকৃতি অপরিবর্তিত থাকলে বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধরনের নীতি বহাল থাকবে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শুধু সামগ্রিক মুদ্রানীতির ওপর নির্ভর না করে আর্থিক সংস্কার, কাঠামোগত পরিবর্তন এবং রাজস্ব নীতির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের বিকাশ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আবাসন খাতের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হবে, যাতে অর্থনীতির এক অংশের অগ্রগতি অন্য অংশের দুর্বলতায় বাধাগ্রস্ত না হয়।
















