হাঙরকে সাধারণত ভয়ংকর শিকারি প্রাণী হিসেবেই দেখা হয়। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে, এই সামুদ্রিক প্রাণীর রয়েছে বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক আচরণ এবং এমন কিছু বৈশিষ্ট্য, যা অনেকের কাছেই অজানা।
প্রথমত, হাঙর সহজ গণনা করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, তারা বিভিন্ন আকৃতি, রং ও সংখ্যার পার্থক্য বুঝতে সক্ষম এবং সহজ গাণিতিক তুলনাও করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নির্দিষ্ট ধরনের সুরের সঙ্গে আচরণগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে হাঙর। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু হাঙর বিশেষ ধরনের সঙ্গীত শুনে নির্দিষ্ট স্থানে চলে গিয়ে খাবার সংগ্রহ করতে শিখেছে।
তৃতীয়ত, অনেক হাঙরের ছানারও মানুষের মতো নাভির দাগ থাকে। যেসব প্রজাতির ছানা মায়ের শরীরের ভেতর বেড়ে ওঠে, তারা জন্মের পর কিছু সময় পর্যন্ত এই দাগ বহন করে।
চতুর্থত, কিছু প্রজাতির হাঙরের ছানা জন্মের আগেই মায়ের গর্ভে নিজেদের ভাইবোনকে খেয়ে ফেলে। ফলে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী ছানাটিই বেঁচে থাকে।
পঞ্চমত, সব হাঙর একাকী নয়। কিছু প্রজাতি বছরের পর বছর একই সঙ্গীদের সঙ্গে চলাফেরা করে এবং দলবদ্ধভাবে খাদ্য সংগ্রহ ও বিপদ এড়ানোর কৌশল শেখে।
ষষ্ঠত, হাঙরের শরীরের ত্বক ক্ষুদ্র দাঁতের মতো গঠনে আবৃত। এই বিশেষ গঠন পানির প্রতিরোধ কমিয়ে দ্রুত সাঁতার কাটতে সাহায্য করে এবং স্পর্শের মাধ্যমেও আশপাশের বস্তু সম্পর্কে ধারণা দেয়।
সপ্তমত, হাঙরের অনুভূতির ক্ষমতা অত্যন্ত উন্নত। তারা পানির কম্পন, বৈদ্যুতিক সংকেত এবং পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র পর্যন্ত শনাক্ত করতে পারে। এমনকি কাছাকাছি থাকা অন্য প্রাণীর হৃদস্পন্দনের বৈদ্যুতিক সংকেতও অনুভব করতে সক্ষম।
অষ্টমত, হাঙর পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন মেরুদণ্ডী প্রাণী। বিজ্ঞানীদের মতে, তাদের পূর্বপুরুষের অস্তিত্ব গাছপালা, ডাইনোসর, এমনকি শনিগ্রহের বলয় গঠনেরও বহু আগে ছিল।
নবমত, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় পাঁচশ প্রজাতির হাঙর রয়েছে। অতীতে এ সংখ্যা আরও বেশি ছিল এবং এখনো নতুন নতুন প্রজাতির সন্ধান মিলছে।
















