কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে। ইউক্রেন ও গাজা সংঘাত বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্প খরচের ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর লক্ষ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা এমন প্রযুক্তি, যা সীমিত বা খুব কম মানবীয় হস্তক্ষেপে লক্ষ্য শনাক্ত ও আঘাত হানতে সক্ষম। বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের আকাশযান, ঘুরে বেড়ানো হামলাকারী ড্রোন, নজরদারি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত ড্রোন বহর এই প্রযুক্তির আওতায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধে উভয় পক্ষই স্বল্পমূল্যের ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে। এগুলোর মাধ্যমে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, সামরিক ঘাঁটি এবং সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে দ্রুত হামলা চালানো সম্ভব হচ্ছে। একই সঙ্গে উন্নত তথ্য সংগ্রহ ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে লক্ষ্য শনাক্ত থেকে হামলা পর্যন্ত সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
অন্যদিকে গাজা সংঘাতে ঘনবসতিপূর্ণ নগর এলাকায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক লক্ষ্য শনাক্তকরণ প্রযুক্তি এবং ছোট আকারের নজরদারি ড্রোন ব্যাপকভাবে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। মানবিক আইন, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক এই প্রযুক্তির চারটি প্রধান সুবিধা হলো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দীর্ঘ সময় নজরদারি চালানোর সক্ষমতা, অধিক নির্ভুল হামলা এবং কম খরচে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান পরিচালনা। এর ফলে তুলনামূলক ছোট বাহিনীও বড় সামরিক শক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থার বিস্তার আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বাণিজ্যিক ড্রোন ও উন্মুক্ত প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বা অ-রাষ্ট্রীয় শক্তির হাতেও এসব প্রযুক্তি পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষ ও যোদ্ধাদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ, হামলার আনুপাতিকতা এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমানোর নীতিগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সিদ্ধান্তে ভুল হলে দায় কার হবে, সেই প্রশ্ন এখনো স্পষ্ট নয়। এ কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অর্থবহ মানবীয় নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি জোরালো হচ্ছে।
বিশ্লেষণে ভারতের জন্যও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরা হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সংঘাত মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তিতে ড্রোন, স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
















