ভারতের সেনাবাহিনীর জন্য তৈরি হওয়া জোরাওয়ার হালকা যুদ্ধ ট্যাংকের সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত বর্ম সংযোজনের ফলে ট্যাংকের ওজন যেন এমনভাবে না বাড়ে, যাতে এর গতি ও পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বর্তমানে ট্যাংকটির ওজন প্রায় পঁচিশ টন। সেনাবাহিনী চায় এটি এমন সুরক্ষা পাবে, যাতে আধুনিক বর্মভেদী গোলার আঘাতও প্রতিহত করা সম্ভব হয়। বিদ্যমান সুরক্ষা মূলত মাইন, গোলার টুকরা এবং ভারী মেশিনগানের গুলি প্রতিরোধে সক্ষম হলেও ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য আরও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে প্রতিবেশী দেশের সমমানের হালকা ট্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হতে পারে। ওই ট্যাংকে পরিবর্তনযোগ্য বর্ম ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সুরক্ষা যোগ করা যায়, অথচ পুরো প্ল্যাটফর্মের নকশা বদলাতে হয় না। একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে জোরাওয়ারের ভবিষ্যৎ সংস্করণগুলো আরও কার্যকর হতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাংকের ওজন অস্বাভাবিকভাবে বাড়লে এর ইঞ্জিনের ওপর চাপ বাড়বে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত চলাচলের ক্ষমতা কমে যাবে। ভারতের স্থলযুদ্ধ নীতিতেও দ্রুত গতিশীল ও অভিযোজনক্ষম বাহিনীর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই সুরক্ষা বৃদ্ধি করতে গিয়ে ট্যাংকের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট করা যাবে না।
এ সমস্যার সমাধানে উন্নত মানের হালকা বর্ম প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আধুনিক সিরামিকভিত্তিক বর্ম আগের তুলনায় অনেক হালকা হলেও শক্তিশালী আঘাত প্রতিরোধে বেশি কার্যকর। ধাপে ধাপে উন্নত উপকরণ ব্যবহার করলে ওজন খুব বেশি না বাড়িয়েই সুরক্ষার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তৈরি উন্নত উপকরণ ব্যবহার করলে বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরতা কমবে, সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পও লাভবান হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও বাড়বে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে জোরাওয়ারের সাফল্য নির্ভর করবে এর গতিশীলতা, পাহাড়ি অঞ্চলে দ্রুত মোতায়েনের সক্ষমতা এবং আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। উন্নত হালকা বর্ম প্রযুক্তি ব্যবহার করলে এই দুই লক্ষ্যই একসঙ্গে অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।
















