কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানি ৭৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। তার নেতৃত্বে কাতার মধ্যপ্রাচ্যের একটি ছোট জ্বালানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী জ্বালানি ও বিনিয়োগ শক্তিতে পরিণত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, তার রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক নীতি আজও কাতারের উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
১৯৯৫ সালে ক্ষমতায় আসার সময় কাতারের অর্থনীতি মূলত তেলের ওপর নির্ভরশীল ছিল এবং দেশের বিশাল প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার তখনও শুরু হয়নি। পরবর্তী দুই দশকে বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে কাতার বিশ্বের শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের পাশাপাশি কাতার বিপুল আয়কে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে রূপান্তরের কৌশল গ্রহণ করে। এ লক্ষ্যেই রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সার্বভৌম সম্পদ তহবিলে পরিণত হয়। এই তহবিলের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন খাত ও দেশে বিনিয়োগ করে কাতার আয়ের নতুন উৎস তৈরি করেছে।
বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হামাদের সময় দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্বের দ্রুততম অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মধ্যে কাতার স্থান করে নেয়। একই সঙ্গে মাথাপিছু আয়ও বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
জ্বালানি খাতের বাইরে শিক্ষা, গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও ব্যাপক বিনিয়োগ করা হয়। আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার ভিত্তি স্থাপন করা হয়।
এ সময় হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর, আধুনিক সড়ক, নতুন নগর উন্নয়ন এবং গণপরিবহনসহ বড় অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। এসব বিনিয়োগই পরবর্তীতে কাতারকে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের সক্ষমতা অর্জনে সহায়তা করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বহুমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমান আমিরের নেতৃত্বেও সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হামাদের সবচেয়ে বড় অবদান ছিল জ্বালানি সম্পদ থেকে অর্জিত আয়কে শুধু ভোগে নয়, বরং শিক্ষা, অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতা গঠনের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা। সেই কৌশলই আজ কাতারকে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
















