বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন এক ভারতীয় বিশ্লেষক। তার মতে, সরকার পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়ার যে আশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক কয়েকটি কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুর কারণে সেই সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত উচ্চপর্যায়ে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ নিলেও এখন পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর বিলম্বিত হওয়া, উচ্চপর্যায়ের বৈঠক না হওয়া এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় ঝুলে থাকাকে তিনি সম্পর্কের গতি কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রতিবেদনে সীমান্তে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পদক্ষেপ, কূটনৈতিক প্রতিবাদ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসা এবং তিস্তা চুক্তিতে অগ্রগতির অভাবকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্লেষকের মতে, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সহযোগিতা ভারতের কৌশলগত মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততাকে তিনি ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক সংলাপের নতুন কাঠামো এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয়ের বিষয়টিও ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় যোগাযোগ এবং তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধিকে সরাসরি সামরিক জোট হিসেবে দেখার মতো প্রকাশ্য প্রমাণ এখনো নেই। চীনের পাশাপাশি তুরস্ককে একটি অতিরিক্ত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহকারী হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের বিরুদ্ধে কোনো অবস্থান গ্রহণের সমতুল্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে আরও স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের চেষ্টা করছে। তবে ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে বাণিজ্য, চিকিৎসা ভ্রমণ, যোগাযোগ এবং পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এর অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
















