ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা, খনিজ সম্পদ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফরে দুই দেশ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা এশিয়ার দুই বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
সফরকালে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব যৌথভাবে জানান, পারস্পরিক আস্থা, ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হবে। তাদের মতে, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
চুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের তৈরি অতিধ্বনি গতির ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের সিদ্ধান্ত। বিশ্লেষকদের মতে, এসব ব্যবস্থা ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে দক্ষিণ চীন সাগর ও মালাক্কা প্রণালির মতো কৌশলগত এলাকায় দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়বে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া কোনো পরাশক্তির ওপর নির্ভরশীল হতে চায় না। বরং দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। একই ধরনের কৌশল ভারতও দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করে আসছে। ফলে দুই দেশের সহযোগিতা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে নতুন সমঝোতা হয়েছে। বিরল খনিজ, নিকেল এবং অন্যান্য কৌশলগত সম্পদের অনুসন্ধান, উত্তোলন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও শিল্প খাতের জন্য এসব খনিজের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
তাদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাস্তবতায় ভারত ও ইন্দোনেশিয়া দেখিয়ে দিচ্ছে যে বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে না পড়েও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব। স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, বহুমুখী কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং বাস্তবমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশ এশিয়ার মধ্যম শক্তিগুলোর জন্য একটি কার্যকর পররাষ্ট্রনীতির উদাহরণ তৈরি করছে।
















