বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎচালিত যানবাহন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে খনিজসম্পদসমৃদ্ধ দেশগুলোর কৌশলগত গুরুত্বও বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে উজবেকিস্তান আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তামা, বিরল খনিজ, নিকেল, টাংস্টেন, গ্যালিয়াম, জার্মেনিয়ামসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর খনিজ এখন বৈশ্বিক শিল্পনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎচালিত যানবাহন, বায়ুবিদ্যুৎ, সৌরবিদ্যুৎ এবং তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোতে এসব খনিজের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় কৌশলগত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববাজারে এসব খনিজের প্রক্রিয়াজাতকরণ এখনো কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত। ফলে বড় অর্থনীতিগুলো বিকল্প উৎস খুঁজতে আগ্রহী হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত খনিজ মজুদ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ থাকা দেশগুলো নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
উজবেকিস্তানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে স্বর্ণ ও তামা রপ্তানিই মোট আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ জুগিয়েছে। অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও দস্তা রপ্তানিতে কিছুটা পতন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে উজবেকিস্তানের বেশির ভাগ রপ্তানি অপরিশোধিত বা স্বল্প প্রক্রিয়াজাত খনিজনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। তারা মনে করছেন, দেশে খনিজ পরিশোধন, আধুনিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে রপ্তানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হবে।
এ লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ধাতু প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য নতুন শিল্প কমপ্লেক্স গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ এবং গবেষণা সহযোগিতা জোরদারের চেষ্টা চলছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, বৃহৎ পরিশোধন শিল্প গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো সমান গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে। অন্যথায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে কাঙ্ক্ষিত অবস্থান অর্জন কঠিন হতে পারে।
তাদের মতে, শুধু খনিজ উত্তোলন নয়, উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনেই ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার মূল চাবিকাঠি নিহিত রয়েছে।
















