তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত দুই দিনের সামরিক জোটের শীর্ষ সম্মেলনে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রধান আলোচ্য বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলো প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সম্মেলনের সমাপনী ঘোষণায় ইউক্রেনের জন্য প্রায় আট হাজার কোটি ইউরো সমমূল্যের সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি আগামী বছরগুলোতেও একই মাত্রার সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এতে ইউক্রেনের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর বিষয়েও সদস্য রাষ্ট্রগুলো নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, আকাশ প্রতিরক্ষা, মানববিহীন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে আরও বিনিয়োগের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমান লক্ষ্য অনুযায়ী প্রতিরক্ষা ব্যয় পূরণে এখনো অনেক সদস্য দেশ পিছিয়ে রয়েছে।
সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, প্রয়োজনে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে পরে তিনি একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ এড়ানোর ইচ্ছার কথাও জানান।
সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না বলেও সদস্য দেশগুলো একমত হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট সম্মেলনের সময় বিভিন্ন সদস্য দেশের নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। বৈঠকে আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি এবং মানববিহীন সামরিক ব্যবস্থার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
সম্মেলনে আরেকটি আলোচিত বিষয় ছিল গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য। তিনি অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরলেও ডেনমার্ক পুনরায় জানিয়ে দেয়, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই ওঠে না এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে সেখানকার জনগণ ও ডেনমার্ক।
সম্মেলন চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কয়েকটি ইউরোপীয় মিত্র দেশের সমালোচনাও করেন। বিশেষ করে ইরান সংকট মোকাবিলায় পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি কিছু দেশের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেন।
সম্মেলন শেষে জোটের মহাসচিব বলেন, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার সদস্য দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গৃহীত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
















