পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে কয়েক দফা সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৪২ জন নিহত হওয়ার পর বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।
পাকিস্তানের সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবার থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে ১৮ জন পুলিশ সদস্য, ১১ জন সেনাসদস্য এবং ৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে ৫৪ জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দুই দফা বড় হামলা
সোমবার বেলুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি বাঁধ প্রকল্পের নিরাপত্তা পোস্টে কয়েক ডজন সশস্ত্র হামলাকারী আক্রমণ চালায়। এ সময় ১৮ জন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করা হয় এবং আরও ৯ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
এরপর বুধবার বেলুচিস্তানের একটি মহাসড়কে সেনাবাহিনীর একটি যানবাহনে অতর্কিত হামলা চালানো হলে ১১ জন সেনাসদস্য নিহত হন।
সেনাবাহিনীর কঠোর বার্তা
হামলার পর সামরিক মুখপাত্র বিদ্রোহীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা তোমাদের খুঁজে বের করব, আমরা তোমাদের আঘাত করব।”
তিনি আরও দাবি করেন, হামলাগুলোর সঙ্গে “অনেক আফগান” জড়িত ছিল এবং যারা সন্ত্রাসীদের আশ্রয়, সহায়তা বা অর্থায়ন করবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ
আফগানিস্তান ও ইরান সীমান্তবর্তী বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতায় অস্থিতিশীল। পাকিস্তান সরকার তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-কে এ অঞ্চলের হামলার জন্য দায়ী করে।
এসব গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনী, বিদেশি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং খনিজসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর থেকে বেলুচিস্তানে একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে।
আফগানিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ড পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে কাবুল এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি পাকিস্তান দাবি করেছে, আফগানিস্তান থেকে ছোড়া চারটি ড্রোন বেলুচিস্তানে প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়েছে। এর আগে জুনের শেষ দিকে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর অভিযানে ২৯ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরেও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান বরাবরের মতো ভারতের বিরুদ্ধে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মিকে (বিএলএ) সমর্থনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করেছে, যদিও এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। ভারতও এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
















