ভ্রমণ মানেই নতুন শহর, নতুন মানুষ আর নতুন স্বাদ—এমনটাই বিশ্বাস করেন জনপ্রিয় টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, শেফ ও লেখক অ্যান্টনি পোরোভস্কি। তাঁর ভাষায়, নতুন কোনো শহরে পৌঁছানোর পর গোসলের পরই সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো ভালো খাবার খুঁজে বের করা। সম্প্রতি তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাওয়া জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ছয়টি খাবারের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।
পোরোভস্কি জানান, তিনি কোনো নতুন জায়গায় গেলে রেস্তোরাঁ বাছাইয়ের একটি সহজ কৌশল অনুসরণ করেন। ছোট, স্থানীয় রেস্তোরাঁয় যদি বয়স্ক কোনো নারীকে রান্না করতে দেখেন, তাহলে সেটিকে ভালো খাবারের অন্যতম নিশ্চয়তা হিসেবে ধরে নেন। তাঁর মতে, স্থানীয় মানুষের ভিড় থাকে এমন জায়গাই সাধারণত সেরা অভিজ্ঞতা দেয়।
মেইনের লবস্টার রোল
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যের কেনেবাঙ্কে অবস্থিত ‘দ্য ক্ল্যাম শ্যাক’-এর লবস্টার রোলকে তিনি বিশ্বের প্রিয় খাবারের তালিকায় রেখেছেন। সমুদ্রের লবণাক্ত পানিতে রান্না করা লবস্টার, সমুদ্রতীরের পরিবেশ এবং তাজা বুনো ব্লুবেরি—সব মিলিয়ে এটি তাঁর কাছে গ্রীষ্মের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা।
ওয়ারশর স্টেক টারটার
পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে ‘স্টারি ডম’ রেস্তোরাঁয় খাওয়া স্টেক টারটারও তাঁর স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। হাতে কাটা গরুর মাংস, ডিমের কুসুম, হর্সর্যাডিশ ও আচারের সমন্বয়ে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী খাবারকে তিনি পোলিশ রন্ধনশৈলীর অন্যতম সেরা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এটি ছিল তাঁর সঙ্গীর জীবনের প্রথম পোলিশ খাবারও।
মেক্সিকো সিটির রোজমেরি আইসক্রিম
মেক্সিকো সিটির বিখ্যাত ‘রোসেত্তা’ রেস্তোরাঁয় শেফ এলেনা রেইগাদাসের তৈরি রোজমেরি আইসক্রিম ও হার্ব সালাদ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। একই সফরে তিনি রেস্তোরাঁটির জনপ্রিয় গুয়াভা পেস্ট্রিও উপভোগ করেন। শুটিং শেষ হওয়ার পরও তিনি কয়েকবার একই রেস্তোরাঁয় ফিরে গিয়েছিলেন।
প্যারিসের নিখুঁত সকালের নাশতা
প্যারিসের ঐতিহাসিক ‘হোটেল দে ক্রিয়োঁ’-এ খাওয়া নরম স্ক্র্যাম্বলড এগ, স্মোকড স্যামন, ক্রোয়াসাঁ, ফরাসি মাখন ও স্ট্রবেরি জ্যামকে তিনি জীবনের অন্যতম নিখুঁত সকালের নাশতা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, খাবারের স্বাদের পাশাপাশি পরিবেশও অভিজ্ঞতাকে অনন্য করে তুলেছিল।
গ্রিসের মাইকোনোসে পর্ক চপ
গ্রিসের মাইকোনোস দ্বীপের ‘কিকিস ট্যাভার্ন’-এ খাওয়া মধু দিয়ে গ্রিল করা রসালো পর্ক চপ তাঁর অন্যতম স্মরণীয় খাবার। সমুদ্রে সাঁতার কেটে দীর্ঘ অপেক্ষার পর পরিবেশিত এই খাবারকে তিনি জীবনের সেরা স্বাদের একটি বলে উল্লেখ করেন।
ইতালির স্টাফড গিনি ফাউল
ইতালির এমিলিয়া-রোমানিয়া অঞ্চলের ‘লোকান্ডা দেল ফালকো’ রেস্তোরাঁয় অভিনেতা জাস্টিন থেরুর সঙ্গে খাওয়া ডুমুর ও লার্দো দিয়ে ভর্তি মাটির পাত্রে রান্না করা গিনি ফাউলও তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সফর থেকে ফিরে তিনি উৎকৃষ্ট মানের পারমিজিয়ানো রেজিয়ানো চিজ ও বালসামিক ভিনেগারও সঙ্গে নিয়ে আসেন।
পোরোভস্কির মতে, ভ্রমণে খাবার শুধু স্বাদ নয়; এটি একটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবনধারা বোঝার অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। তাই পরিকল্পিত তালিকার চেয়ে তিনি স্থানীয় অভিজ্ঞতা ও স্বতঃস্ফূর্ত আবিষ্কারকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
















