সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে পাকিস্তানের করাচিগামী একটি কার্গো উড়োজাহাজ আরব সাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাকিস্তানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও বাণিজ্যিক নৌপরিবহন সংস্থার সমন্বিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। রাতভর অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থল শনাক্ত করা সম্ভব হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে পাঁচজন অভিজ্ঞ ক্রুসদস্য নিয়ে কার্গো উড়োজাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। উড্ডয়নের কিছু সময় পর করাচি আকাশ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্রুরা নেভিগেশন-সংক্রান্ত একটি সমস্যার কথা জানান।
নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তাৎক্ষণিকভাবে উড়োজাহাজটিকে সহায়তা দিতে শুরু করে। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাডারে উড়োজাহাজটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর তথ্য দেখা যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে এটি সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।
উড়োজাহাজটি দীর্ঘদিন বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী হিসেবে ব্যবহারের পর কার্গো পরিবহনের উপযোগী করে রূপান্তর করা হয়েছিল। পরে এটি পাকিস্তানের একটি বেসরকারি কার্গো সংস্থার বহরে যুক্ত হয় এবং নিয়মিত আঞ্চলিক কার্গো পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাকিস্তানের উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র অনুসন্ধান অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ দ্রুত সম্ভাব্য দুর্ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক টহল উড়োজাহাজ, বিমান বাহিনীর আকাশযান এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহন সংস্থার একটি জাহাজও অভিযানে অংশ নেয়।
রাতভর প্রতিকূল আবহাওয়া ও অন্ধকারের মধ্যেও যৌথভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। নিরাপত্তা ও বিমান চলাচল বিশ্লেষকদের মতে, এত অল্প সময়ে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা এবং ধ্বংসাবশেষের অবস্থান নির্ণয় একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, উড়োজাহাজটির নেভিগেশন-সংক্রান্ত সমস্যাসহ সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















