ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক, অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক প্রভাব মোকাবিলায় ‘কোয়াড প্লাস’ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, বিদ্যমান চার দেশের নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশ যুক্ত হলে অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের বাণিজ্যের বড় একটি অংশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত দাবি, কৃত্রিম দ্বীপ নির্মাণ, তাইওয়ানের ওপর চাপ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে এ অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার বাড়িয়েছে। এর ফলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে চার দেশের নিরাপত্তা সংলাপকে আরও বিস্তৃত করার ধারণা সামনে আসে। মহামারির সময় ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমন্বয় বাড়ায় ‘কোয়াড প্লাস’ ধারণাটি গুরুত্ব পায়।
বিশ্লেষকদের মতে, নিউজিল্যান্ড গোয়েন্দা সহযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিয়েতনামের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ চীন সাগরে নজরদারি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে সহায়ক হতে পারে। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার শক্তিশালী অর্ধপরিবাহী শিল্প প্রযুক্তি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে সহায়তা করবে এবং চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে একাধিক বাধাও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অনেকেরই চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ালে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অতীতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে চীনের অর্থনৈতিক চাপ এবং ভিয়েতনাম ও নিউজিল্যান্ডের ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক নির্ভরতার বিষয়টি এ উদ্বেগকে আরও বাড়িয়েছে।
আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোটকে কেন্দ্র করে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা। অনেক দেশ মনে করে, নতুন নিরাপত্তা কাঠামো বিদ্যমান আঞ্চলিক সহযোগিতা ব্যবস্থার গুরুত্ব কমিয়ে দিতে পারে। ফলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য সদস্য দেশগুলোর কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কোয়াড প্লাস’-এ যোগ দেয়নি। ফলে এই উদ্যোগের সক্ষমতা এখনো সীমিত রয়েছে। তবে অভিন্ন নিরাপত্তা উদ্বেগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিকল্প গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ভবিষ্যতে এই কাঠামোকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
















