অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে আটক থাকা ফিলিস্তিনি চিকিৎসককে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন। কমিশনের দাবি, আটক অবস্থায় ওই চিকিৎসক গুরুতর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গেছে এবং তার শারীরিক অবস্থা উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার একটি হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বাহান্ন বছর বয়সী ওই চিকিৎসককে দীর্ঘ সময় ধরে বিচার ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিনের নির্যাতনের কারণে তার জীবন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠন ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কারাগারে তিনি নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাতে তার আইনজীবী জানান, শারীরিকভাবে তিনি এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে প্রথমে তাকে চিনতেই কষ্ট হয়েছে।
সম্প্রতি আদালতের এক ভার্চুয়াল শুনানিতে তাকে অত্যন্ত দুর্বল ও ওজনহীন অবস্থায় দেখা যায়, যা তার স্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছে।
জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন বলেছে, ওই চিকিৎসকসহ আটক সব চিকিৎসাকর্মীকে নিঃশর্ত, নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে তার জন্য স্বাধীন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাকে এমন একটি আইনি ব্যবস্থার আওতায় আটক রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় বিচার ছাড়াই আটক রাখার সুযোগ রয়েছে। কমিশনের মতে, আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণ আন্তর্জাতিক আইনের সম্ভাব্য গুরুতর লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, নির্যাতনের অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে জাতিসংঘের আরেকটি মানবাধিকার সংস্থাও ওই চিকিৎসকের আটককে স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানায়। সংস্থাটির মতে, এই আটক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার একাধিক বিধানের পরিপন্থী।
বর্তমানে অভিযোগ ছাড়াই গাজা থেকে আটক অন্তত চৌদ্দজন ফিলিস্তিনি চিকিৎসক কারাগারে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতেন এবং ব্যক্তিগত পারিবারিক ক্ষতির পরও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে গিয়েছিলেন।
















