এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয় দফায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। বুধবার ভোরে চালানো এ হামলায় শহরের অন্তত দুটি এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং অন্তত দুইজন আহত হন। আহতদের একজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কিয়েভের নগর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন।
এর আগের দিন মঙ্গলবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরীতে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবারও রাজধানী কিয়েভে ব্যাপক হামলা চালায় রাশিয়া। ওই হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হন এবং একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান যুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। ইউক্রেন বিশেষ করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে তারা ড্রোন হামলার মাধ্যমে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন উপদ্বীপে জ্বালানি বহনকারী একাধিক ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কয়েকটি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরে আরও দুটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণসাগর-সংলগ্ন ওই সাগরপথ রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এদিকে সামরিক জোটের বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যেই নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। সম্মেলনে ইউক্রেনকে আরও সামরিক সহায়তা, বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, যৌথ উৎপাদন এবং সামরিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন সমঝোতায় পৌঁছেছেন। আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তির আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন বলে জানা গেছে। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন। যুদ্ধের বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষই আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছাতে আগ্রহী।
















