দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতিকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবে তারা দক্ষিণ ইরানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করে আশিটিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান শেষ করা হয়।
অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী দাবি করেছে, প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ৮৫টি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তারা।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বন্দর, উপকূলীয় স্থাপনা এবং সামুদ্রিক নজরদারি ব্যবস্থার আশপাশে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
ঘটনার পর কুয়েত ও বাহরাইনে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানায়, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, গত মাসে হওয়া সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাদের দাবি, দক্ষিণ ইরানে হামলা এবং তেল রপ্তানির ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ সেই সমঝোতার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পর পরিস্থিতির জবাব দিতেই এই সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাবলির ফলে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
















