সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট দেশটিতে ঐতিহাসিক সফর করছেন। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, বিস্ফোরণের লক্ষ্য হতে পারে ফরাসি প্রেসিডেন্টের সফরকারী প্রতিনিধি দল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শহরের কেন্দ্রস্থলের একটি ব্যস্ত এলাকায় বিস্ফোরণ দুটি ঘটে। এতে অন্তত ১৮ জন আহত হন, যার মধ্যে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও রয়েছেন।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরক শনাক্ত করার পর তা নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা চলাকালেই বিস্ফোরণ ঘটে। ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, একটি আবর্জনার পাত্রে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। অল্প সময়ের মধ্যেই কাছাকাছি আরেকটি বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণের পর আগুন, ধোঁয়া এবং একটি গাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও দেখা যায়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রেসিডেন্টের বহর যাতায়াতের সম্ভাব্য পথ লক্ষ্য করে আগের রাতেই বিস্ফোরক স্থাপন করা হয়ে থাকতে পারে। তবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিস্ফোরণের স্থান প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে ছিল এবং তার সফরসূচিতে সরাসরি কোনো হুমকি সৃষ্টি করেনি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি নিরাপদে রাষ্ট্রপতির প্রাসাদে পৌঁছেছেন এবং বিস্ফোরণের শব্দও শোনেননি। পরে সিরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়।
এ ঘটনার দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন স্বীকার করেনি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করছে এবং এর উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও নতুন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও রাজধানী দামেস্কের একটি ক্যাফেতে বিস্ফোরণে কয়েকজন নিহত ও বহু মানুষ আহত হয়েছিলেন। সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউরোপের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টই প্রথম সিরিয়া সফর করছেন। সফরে দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনীতি, জ্বালানি, পরিবহন এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
ফ্রান্স জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার অর্থনীতি পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং বিভিন্ন অবকাঠামো খাতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। পাশাপাশি কয়েকটি বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা চলছে।
















