জনপ্রিয় ভারতীয় গায়ক ও অভিনেতা দিলজিৎ দোসান অভিনীত নতুন চলচ্চিত্র মুক্তির মাত্র দুই দিনের মাথায় দেশটির একটি অনলাইন প্রদর্শনীমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে ভারতজুড়ে আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
চলচ্চিত্রটি মানবাধিকারকর্মী জসবন্ত সিং খালরার জীবনের ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। পাঞ্জাবে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতার সময় নিখোঁজ হওয়া এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনিও নিখোঁজ হন। পরে তদন্তে তার অপহরণ ও হত্যার বিষয়টি সামনে আসে এবং এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার দণ্ড হয়।
চলচ্চিত্রটি শুক্রবার অনলাইন মাধ্যমে মুক্তি পেলেও দুই দিন পর তা সরিয়ে নেওয়া হয়। প্রদর্শনীমাধ্যম কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি ভারতে প্রদর্শন করা হবে না। তবে কী কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
চলচ্চিত্রটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, সরকারি নির্দেশেই এটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
অভিনেতা দিলজিৎ দোসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সরাসরি সম্প্রচারে বলেন, চলচ্চিত্রটি সরিয়ে নেওয়া হতে পারে—এমন আশঙ্কা তাদের আগে থেকেই ছিল। তবে এত দ্রুত এমন সিদ্ধান্ত হবে, তা তিনি ভাবেননি। তিনি জানান, অনিশ্চয়তার কারণেই চলচ্চিত্রটির প্রচারণা সীমিত রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অন্তত কিছু সময়ের জন্য হলেও দর্শকরা চলচ্চিত্রটি দেখতে পেরেছেন, এটিই তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়।
চলচ্চিত্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০২২ সালে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ছাড়পত্র-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি।
নির্মাতার দাবি, প্রথমে চলচ্চিত্রটির নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন পর্যায়ে শতাধিক দৃশ্য ও সংলাপ পরিবর্তন কিংবা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব আসে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পরিবর্তন মেনে নিলে চলচ্চিত্রটির মূল বক্তব্যই বদলে যেত।
শেষ পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পরিবর্তে অনলাইন মাধ্যমে নতুন নামে চলচ্চিত্রটি প্রকাশ করা হয়। নির্মাতা জানান, সেখানে চলচ্চিত্রটি মূল রূপেই প্রকাশ করা হয়েছিল, যদিও আগের নামটি রাখা সম্ভব হয়নি।
ভারতের প্রচলিত আইনে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্রের জন্য সরকারি ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও অনলাইন মাধ্যমে সরাসরি প্রকাশিত চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে ভিন্ন বিধান রয়েছে। তবে প্রয়োজনে সরকারি নির্দেশে সেগুলোও সরিয়ে নেওয়া যেতে পারে।
চলচ্চিত্রটি সরিয়ে নেওয়ার পর নির্মাতা বলেন, এ ঘটনার পর কী প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না। অন্যদিকে প্রদর্শনীমাধ্যম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা চলচ্চিত্রটির প্রতি এবং নির্মাতার সৃজনশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি আস্থা রাখে এবং ভবিষ্যতে এটি আবারও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করার আশা করছে।
















