দেশকে নকশালমুক্ত ঘোষণা করার পরও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি বজায় রাখতে সুশাসন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য এলেও বিদ্রোহের মূল কারণগুলো দূর না হলে ভবিষ্যতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে বামপন্থি চরমপন্থী সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একসময় শতাধিক জেলা এ ধরনের সহিংসতায় আক্রান্ত থাকলেও বর্তমানে কোনো জেলাকেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়নি। একই সঙ্গে সহিংস ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবং বিপুল সংখ্যক বিদ্রোহী আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা অভিযান, আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসন এবং অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত কৌশল বিদ্রোহ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে এটিকে চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে না দেখে নতুন এক পর্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহী তৎপরতা ছিল, সেখানে দুর্বল প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি এবং বন ও ভূমির অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ বিদ্রোহের অন্যতম কারণ ছিল। তাই এসব অঞ্চলে শুধু নিরাপত্তা জোরদার নয়, কার্যকর প্রশাসন ও জনসেবার মান উন্নয়নও জরুরি।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভূমি ও বনসম্পদ ব্যবহারের অধিকার বাস্তবায়নে এখনো নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হলে নতুন করে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। তাই উন্নয়নের সুফল যাতে স্থানীয় মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আত্মসমর্পণকারী বিদ্রোহীদের সমাজে পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি চালু করা হলেও মানবাধিকার নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন পর্যবেক্ষকেরা। তাদের মতে, নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার সময় নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও বিচ্ছিন্নভাবে অভিযান, গ্রেপ্তার ও আত্মসমর্পণের ঘটনা এখনো ঘটছে। ফলে বিদ্রোহ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে—এমন দাবি করার পরিবর্তে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে বলেই বাস্তবতা তুলে ধরা উচিত।
















