যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসায় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বহু দশকের কৌশলগত সম্পর্ক নতুন এক পরীক্ষার মুখে পড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, মতবিরোধ বাড়লেও দুই দেশের সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনো খুবই কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে কঠিন সময় পার করছেন। দুর্নীতির মামলার পাশাপাশি সম্ভাব্য সাধারণ নির্বাচনও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে নীতিগত দূরত্ব আরও স্পষ্ট করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে লেবানন পরিস্থিতি নিয়েও সমাধান চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এ বিষয়ে ইসরায়েলের অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই মিত্রের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সম্প্রতি দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপের বিষয়বস্তু নিয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও আলোচনায় আসে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শাসক দলের ভেতরেও ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রশ্নে ভিন্নমত বাড়ছে। দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এবং রক্ষণশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে অতিরিক্ত জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থান এমন যে তিনি চাইলে নিজের দলের বড় অংশকে নতুন নীতির পক্ষে আনতে সক্ষম। একই সঙ্গে বিরোধী দলেও ইসরায়েল সম্পর্কে সমালোচনামূলক অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে।
তবে বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মিত্র। দীর্ঘদিন ধরে দেশটি বিপুল সামরিক সহায়তা, উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও ইসরায়েলের পক্ষে একাধিকবার অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিরোধী নেতারা অভিযোগ করছেন, বর্তমান সরকারের নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি ক্রমেই আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও তা সম্পর্কচ্ছেদের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং বড় কোনো কূটনৈতিক সাফল্য অর্জনের সুযোগ তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন কোনো বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনো স্পষ্ট নয়।
















