নতুন সমঝোতা ভবিষ্যতে সংঘাতের পথ খুলে দিতে পারে, আর সেই সংঘাতের দায় লেবাননের ওপর চাপানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশঙ্কা
লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতাকে ঘিরে দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পরিবর্তে ভবিষ্যৎ সংঘাতের ভিত্তি তৈরি করতে পারে এবং যেকোনো নতুন উত্তেজনার জন্য লেবাননকেই দায়ী করা হতে পারে।
সমঝোতার পর দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, প্রভাবশালী গোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যা বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর করা অত্যন্ত কঠিন।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লেবাননের রাষ্ট্র কাঠামো, সামরিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই সমঝোতার অনেক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিশেষ করে রাষ্ট্রের বাইরে সক্রিয় সশস্ত্র শক্তিকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ নয়।
এছাড়া দেশটির সেনাবাহিনীর সীমিত সক্ষমতা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বহির্ভরশীলতার কারণে নিরাপত্তা সংক্রান্ত দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সমালোচকদের মতে, সমঝোতার কিছু ধারা লেবাননের আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সুযোগও সীমিত করতে পারে। এতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক আদালত বা কূটনৈতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রেও বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এই সমঝোতার শর্ত পূরণে ব্যর্থ হয়, তাহলে তা নতুন সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে এই সমঝোতা নতুন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা, কার্যকর প্রতিরক্ষা নীতি, সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা এবং জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
















