অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকটে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় মানবিক সংকটের পাশাপাশি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসক ও ত্রাণকর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, আহত মানুষের চিকিৎসা, বিশুদ্ধ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে দুই হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এগারো হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। অনেক এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার তীব্র সংকট রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘ সময় আটকে থাকা এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া আহতদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
ত্রাণকর্মীরা জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বহনযোগ্য শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এখন সবচেয়ে জরুরি। তা না হলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় সহায়তা পাঠিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত, উদ্ধার অভিযান এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
জাতিসংঘের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে সৃষ্ট অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। এদিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এর মধ্যেও কয়েকজন জীবিতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, ভূমিকম্পের আগেও দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থা নানা সংকটে ছিল। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, পানি, বিদ্যুৎ এবং দক্ষ জনবলের ঘাটতি বিদ্যমান থাকায় বর্তমান দুর্যোগ সেই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।
















