যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের (MOU) মাধ্যমে তিন মাসেরও বেশি সময়ের সরাসরি সংঘাতের অবসান ঘটার পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধ ইরানের আঞ্চলিক মিত্রজোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর সক্ষমতা ও কৌশলকে কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেললেও এটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি; বরং আরও বিকেন্দ্রীভূত ও অভিযোজনক্ষম কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি কিংবা ইরাকের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থানকে প্রতিরোধের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে ‘ফরোয়ার্ড ডিফেন্স’ নীতির পরিবর্তে ‘হোমল্যান্ড ডিটারেন্স’ বা নিজস্ব ভূখণ্ডকেন্দ্রিক প্রতিরোধ কৌশল আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য মিত্রগোষ্ঠী এখনও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও ভবিষ্যতে তারা আগের মতো কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত বাহিনী নয়; বরং নিজ নিজ স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় পরিচালিত, আরও স্বাধীন ও প্রযুক্তিনির্ভর নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করতে পারে। সাইবার সক্ষমতা, গোয়েন্দা কার্যক্রম, ড্রোন ও নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ওপর তাদের নির্ভরতা আরও বাড়তে পারে।
অন্যদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনও ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। নতুন সমঝোতার আওতায় পুনর্গঠন তহবিল ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ তৈরি হলেও বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরান প্রথমে নিজস্ব প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুনর্গঠনে অগ্রাধিকার দেবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলেও তাদের অর্থায়ন ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি। বরং ভবিষ্যতে আরও নমনীয়, বিকেন্দ্রীভূত এবং বহুমাত্রিক প্রতিরোধ কৌশলের মাধ্যমে ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ নতুন রূপে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
















