রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ক্রিমিয়ার বৃহত্তম শহর সেভাস্তোপলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। মস্কো-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ জানিয়েছেন, শহরের প্রধান বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে হামলার ফলে বহু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে এবং জরুরি মেরামত কাজ চলায় বুধবার সন্ধ্যার আগে পুরোপুরি বিদ্যুৎ ফিরবে না।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, সেভাস্তোপলের প্রধান বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রসহ রাশিয়ার ৪৮টি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের মানববিহীন সিস্টেম বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা ও দখলকৃত অঞ্চলের অবকাঠামো দুর্বল করা।
রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন চলছে এবং জরুরি সেবা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। বাসিন্দাদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়, মোবাইল ফোনের চার্জ সংরক্ষণ এবং প্রবীণ প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রিমিয়ায় জ্বালানি সংকটও তীব্র হয়েছে। ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় সরবরাহপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল বিক্রি সীমিত করেছে। অনেক এলাকায় জ্বালানি স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে এবং কিছু দোকানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাতভর ইউক্রেনের ৩০০টির বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া ১০১টি ড্রোন হামলা চালায়, যার মধ্যে ৯৫টি প্রতিহত করা হয়েছে।
২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান সামরিক লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিকভাবে অঞ্চলটি ইউক্রেনের অংশ হিসেবে স্বীকৃত হলেও ২০১৪ সালে রাশিয়া এটি দখল ও সংযুক্ত করে।
















