ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শক্তিশালী পরপর দুটি ভূমিকম্পে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং হাজারো মানুষ নিরাপত্তার আশঙ্কায় ঘর ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
রাজধানীর এক বাসিন্দা জানান, নিজের জীবনে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তিনি আগে কখনো অনুভব করেননি। তার ভাষায়, ভবনটি ভেঙে পড়বে বলে মনে হচ্ছিল। ভূমিকম্প শুরু হলে তিনি দ্রুত দরজার পাশে একটি শক্ত দেয়ালের আড়ালে আশ্রয় নেন। পরে প্রতিবেশীদের ডাকে সবাই ভবন ছেড়ে বাইরে চলে আসেন এবং সম্ভাব্য পরাঘাতের আশঙ্কায় দীর্ঘ সময় রাস্তায় অবস্থান করেন।
ভূমিকম্পের সময় জাতীয় ছুটির দিন থাকায় অনেক মানুষ বাড়িতে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক ভবন আংশিক ধসে পড়েছে, মানুষ আতঙ্কে খোলা স্থানে জড়ো হয়েছে এবং কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। অনেক বাসিন্দা তাদের পোষা প্রাণী উদ্ধার করতে না পারায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। আবার অনেকে ভবনের নিচতলা থেকে গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ধসে পড়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা গেছে। উদ্ধারকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।
আরেক বাসিন্দা জানান, তার বাড়ির দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। আশপাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং মোবাইল যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
প্রবীণ বাসিন্দাদের অনেকে জানিয়েছেন, কয়েক দশক আগে সংঘটিত বড় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা থাকলেও এবারের কম্পন তাদের কাছে আরও ভয়াবহ বলে মনে হয়েছে। তাদের ভাষায়, প্রবল শব্দের সঙ্গে ঘরের আসবাবপত্র ছিটকে পড়ে এবং কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য পরাঘাতের ঝুঁকির কারণে বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
















